রংপুরে জুলাই গ্রাফিতি পুনর্লিখন ও অংকনের মাধ্যমে প্রতিবাদ

এফএনএস (মমিনুল ইসলাম রিপন; রংপুর) : | প্রকাশ: ১৯ মে, ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
রংপুরে জুলাই গ্রাফিতি পুনর্লিখন ও অংকনের মাধ্যমে প্রতিবাদ

চট্টগ্রামে জুলাই গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে রংপুরে গ্রাফিতির পুনর্লিখন এবং আঁকা কার্যক্রম শুরু করেছে মহানগর জাতীয় ছাত্রশক্তি। পর্যায়ক্রমে নগরীর সবগুলো দেয়াল পুনলির্খন করবে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র সহযোগী এই ছাত্র সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে রংপুর নগরীর ৩৬ জুলাই স্মৃতিসৌধ্য চত্বরের পাশে জেলা পরিষদের দেয়ালে জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন স্লোগান ও গ্রাফিতি অংকন করে জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।  

এ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা জানান, চট্টগ্রামে জুলাইয়ের গ্রাফিতি মুছে ফেলা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে তারা দেয়াল পুনর্লিখন এবং গ্রাফিতি অংকন করছেন। জুলাইয়ের স্মৃতি যাতে কেউ মুছে দিতে না পারেথসেজন্য অভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণামূলক স্লোগান, মন্তব্য ও মূহুর্তগুলোকে তারা আবারো রং-তুলির মাধ্যমে ফুঁটিয়ে তোলা হবে। শুধু তাই নয়,  তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও পানির ন্যায্যহিস্যা আদায়ের দাবিও গ্রাফিতিতে তুলে ধরছেন তারা।

এ সময় দেয়ালে ‘দেশটা কারো বাপে না, রাগ করলা?’ জাগো বাহে তিস্তা বাঁচাই, ইনকিলাব জিন্দাবাদ, স্বাধীনতা এনেছি সংস্কারও আনবো, জুলাই আমার অহংকারসহ বিভিন্ন স্লোগান পুনলির্খন করতে দেখা যায়। 

অংকনে অংশ নেয়া আদিবা ইবনাত নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, জুলাই অনেকগুলো প্রাণের বিনিময়ে পাওয়া অর্জন। এটি আমাদের অহংকার এবং অনুপ্রেরণার আন্দোলন। বর্তমান সরকার যদি গ্রাফিতি মুছে ফেলে তবুও আমাদের হৃদয়ে জুলাই থেকে যাবে। আমরা আশা করি, সরকার এটি করবে নাথকারণ একটা বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, নিপীড়ন, নির্যাতন ও শোষণমুক্ত নতুন বাংলাদেশের জন্য তারাও তো জুলাই আন্দোলন করেছে। আমরা জুলাই কখনোই ছেড়ে দেব না।

আরেক শিক্ষার্থী ও জাতীয় ছাত্রশক্তির কর্মী বলেন, চট্টগ্রামের ঘটনাটি নিন্দনীয়। গ্রাফিতি আঁকতে যাওয়া আমাদের এক বোনকে পুলিশ শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে। রংপুরে এমন ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু বিভিন্নভাবে ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে কেউ কেউ জুলাই গ্রাফিতিগুলো নষ্ট করার চেষ্টা করেছে। আজ আমরা সেই গ্রাফিতিগুলোতে পুনর্লিখন ও আংকন করছি।

রংপুর মহানগর জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি জানান, জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি ও শিক্ষার্থীদের শিল্পকর্ম মুছে ফেলার অপচেষ্টা ইতিহাসকে বিকৃত করার শামিল। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মানুষের বাকস্বাধীনতাকে জুলাই আন্দোলনের আগে ও পরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। যার প্রতিচ্ছবি গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন। আমরা চাই নাথএসব মুছে ফেলে কিংবা আঁকতে বাধা দিয়ে পুরনো ফ্যাসিবাদী শোষণ ব্যবস্থায় এই সরকার ফিরে যাক। একটা বৈষম্যমুক্ত ইনসাফের বাংলাদেশই আমরা দেখতে চাই।

এ সময় জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জামিল হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মুহম্মদ রাজিমুজ্জামান হৃদয়, যুগ্ম সদস্য সচিব ফারহান তানভীর ফাহিম, মেহেদী হাসান মীম, সংগঠক সাদিয়া ইসলাম অন্যন্যা, জাকারিয়া জিওন, বিজয় সুমন, সদস্য মিজানুর মুন্নাসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তি ছাড়াও রংপুরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থী ও জুলাইযোদ্ধারা চট্টগ্রামের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্রাফিতি আঁকতে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রতিবাদ সমাবেশ ও গ্রাফিতি অংকন কর্মসূচি পালন করার কথা রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে