চাঁদপুরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬৬ হাজার পশু

এফএনএস (মিজানুর রহমান; চাঁদপুর) :
| আপডেট: ২০ মে, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম | প্রকাশ: ২০ মে, ২০২৬, ০২:১৭ পিএম
চাঁদপুরে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬৬ হাজার পশু

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁদপুর জেলায় কোরবানির জন্য মোট ৬৬ হাজার ৯৮টি গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, পশুর সম্ভাব্য চাহিদা প্রায় ৭৫ হাজার হওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রায় ৯ হাজার পশুর ঘাটতি রয়েছে। 

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জানাগেছে, কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে ২৭ হাজার ৩৪৬টি ষাড়, ৮হাজার ৩৬৬টি বলদ, ১০হাজার ৫৭১টি গাভী, মহিষ ২৩টি, ছাগল ১৯ হাজার ৩৪৬টি এবং ভেড়া ৪৪৬টি।

সরেজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ঈদুল আজহায় চাঁদপুর জেলায় পারিবারিক ও খামারিদের লালন পালন করা গবাদি পশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মিটে।জেলার ৮ উপজেলায় কোরবানির পশু যোগান দিতে ৪ হাজার ১৫৫জন উদ্যোক্তা রয়েছে। অনেকেই কয়েকমাস আগ কিছু ষাড় সংগ্রহ করে কোরবানিযোগ্য করে তোলে। বেশিরভাগ খামারি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবার দেন এসব পশুকে। ছোট থেকে মাঝারি সাইজের ষাড়গুলো বিক্রি হয় স্থানীয় কোরবানির পশুর হাটে। বড় সাইজের ষাড় খুবই কম বিক্রি হয়। এসব বিক্রির জন্য অনলাইন মার্কেট বেশি ব্যবহার হয়।

বেশ কয়েকটি খামারে দেখাগেছে বিক্রয়যোগ্য ষাঁড়গুলোর যত্ন নিচ্ছে শ্রমিকরা। আগামী ১ সপ্তাহের মধ্যে এসব ষাঁড় বিক্রি হবে কোরবানির পশুর হাটে।

চাঁদপুর শহরের ওয়াপদা গেইট, খলিসাডুলি, বাবুরহাটের স্যাটকো সিএনজি ফিলিং ষ্টেশনের স্যাটকো ডেইরি ফার্মে এবার

নিজস্ব খামারে প্রায় ২০টি পালিত গরু-ছাগল কোরবানির জন্য বিক্রি করা হবে।এই প্রতিষ্ঠানের  উদ্যোক্তা বিশিষ্ট সমাজসেবক ও শিল্পপতি সৈয়দ আহমেদ ও তাঁর একমাত্র ছেলে সালেহ আহমেদ সান।তাদের স্থানীয় প্রতিনিধিরা জানান, দেশীয় প্রযুক্তিতে তারা দীর্ঘ বছর থেকে খামারে গবাদী পশু লালন পালন করে আসছেন। কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করেছেন বেশ কয়েকটি ষাঁড়।তাদের খামারেই সরাসরি বিক্রি কার্যক্রম চলবে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত। 

সদরের মৈশাদি ইউনিয়নের হামানকর্দ্দি গ্রামের নার্গিস বেগম তিনটি বড় ষাড় প্রস্তুত করেছেন। ৩ থেকে ৫ বছর বয়সী এসব ষাড়ের মধ্যে বড়টির নাম রাজা বাবু। এটির দাম চাচ্ছেন ১২লাখ। ৪বছর বয়সী হামানকর্দি কিং। এটির দাম চাচ্ছেন ১০লাখ টাকা। সবচাইতে ছোট ষাড়টির দাম চাচ্ছেন ৫লাখ টাকা।

এই খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন মো. মোসলেম। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ঘাস, খৈল, খড় ও ভুসি খাওয়ানো হয়েছে এসব ষাড়গুলোকে। আমি নিজে এসব ষাড়গুলোর যত্ন নিচ্ছি।

চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৫ হাজার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ি খামারিদের কাছে রয়েছে ৬৬ হাজার। বাকি ৯ হাজার যোগান দিবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। আশা করি কোন ধরণের সংকট হবে না।

এদিকে, চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ২৮ মে পবিত্র ঈদুল আজাকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে চাঁদপুর পৌরসভা এবং সদর উপজেলা আওতাধীন অস্থায়ী কুরবানীর পশুর হাটের ইজারা প্রদান শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পূর্ণ করেছে।অতিরিক্ত হাসিল আদায় হলে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে