কুড়িগ্রামে হাট ভরা গরু, নেই ক্রেতা, খামারিদের দুশ্চিন্তা

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) :
| আপডেট: ২২ মে, ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম | প্রকাশ: ২২ মে, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
কুড়িগ্রামে হাট ভরা গরু, নেই ক্রেতা, খামারিদের দুশ্চিন্তা

পবিত্র ঈদুল আজহা (কোরবানি ঈদ) সামনে রেখে কুড়িগ্রামে গবাদিপশু হাটে উঠতে শুরু করেছে। তবে হাটে গরু-ছাগলের সরবরাহ বাড়লেও প্রত্যাশিত ক্রেতার দেখা মিলছে না। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছোট-বড় খামারিরা। বিশেষ করে উপজেলার অন্যতম বৃহৎ সিংগারডাবড়ী পশুর হাটে ক্রেতা সংকট এখন বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর কুড়িগ্রামে কোরবানির জন্য প্রায় ৩ লাখ ৩৬ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে জেলায় চাহিদা রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৬১ হাজার পশুর। জেলার ৯টি উপজেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে মোট পশুর হাট রয়েছে ২৯টি। এর মধ্যে ১৫টি স্থায়ী এবং ১৪টি অস্থায়ী। শুধু রাজারহাট উপজেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৪০ হাজার গবাদিপশু। এর বিপরীতে প্রায় ৩০ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে বলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ অফিস জানিয়েছেন।  

সরেজমিনে উপজেলার সিংগারডাবড়ী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়,  উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা লালমনিরহাটের বড়বাড়ি, মোস্তফি,তিস্তা ও উলিপুর উপজেলার সদর ও দূর্গাপুর এবং কাঁঠালবাড়ী সহ তিস্তা চরাঞ্চল থেকে আসা খামারিরা কয়েক'শ গরু নিয়ে হাটে অবস্থান করছেন। হাটজুড়ে সারি সারি গরু থাকলেও তুলনামূলকভাবে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেক বিক্রেতা কাক্সিক্ষত দাম পাচ্ছেন না। কেউ কেউ গরু বিক্রি না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের গরুর খামারি মাইদুল ইসলাম বলেন, ‘এক বছর ধরে অনেক কষ্ট করে গরু পালন করছি। খাবার, ওষুধসহ সবকিছুর খরচ বেড়েছে। কিন্তু হাটে ক্রেতা কম। যে দাম বলছে তাতে খরচই উঠবে না।’  আরেক বিক্রেতা আফজাল মিয়া বলেন, ‘ সাত সকালে গরু নিয়ে হাটে আসছি, দুপুর গড়িয়ে গেল এখনো ভালো কোনো ক্রেতা পাইনি। সবাই শুধু দেখে যাচ্ছে, কিনছে না।’ হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা জানান, গরুর দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় অনেকে শেষ সময়ের জন্য অপেক্ষা করছেন।

ক্রেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘গরু অনেক আছে, কিন্তু দাম এখনো নাগালের মধ্যে আসেনি। তাই দেখে যাচ্ছি।’ সিংগারডাবড়ী হাটের ইজারাদার রতন মিয়া বলেন, ‘হাটে পর্যাপ্ত গরু-ছাগল রয়েছে। তবে এখনো ক্রেতা কম থাকায় বেচাকেনা আশানুরূপ হচ্ছে না। আশা করছি আগামী হাটগুলোতে বিক্রি বাড়বে।’ শুক্রবার(২২মে) দুপুরে রাজারহাট উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রহমত আলী বলেন, রাজারহাটে সিংগারডাবড়ী পশুর হাটই একমাত্র বড় হাট যেখানে নিয়মিত গবাদিপশুর বেচাকেনা হয়। তবে বর্তমানে পশুর দাম তুলনামূলক বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও প্রত্যাশিত বিক্রি হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেডিকেল টিম  ও জালনোট শনাক্তকরণ মেশিন স্থাপন করা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জেলায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, হাটে ক্রেতার উপস্থিতিও বাড়বে বলে আশা করছি। প্রতিটি হাটে আমাদের মেডিকেল টিম কাজ করছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে