দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামের মৃত মতিয়ার রহমান ফারাজীর পুত্র মুজিবর রহমান ফারাজীর ক্রয়কৃত দালিলিক জমির আনুমানিক ৫ শতাধিক কলাগাছ কেটে সাবাড় করেছে চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা।
সরেজমিনে গিয়ে ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের লাখোহাটি গ্রামের মৃত জামাল ফারাজীর পুত্র আঃ ওহাব ফারাজীর মৃত্যুয়ান্তে তার সকল জমিজমা গত ৯/০২/২০০৫ ইং তারিখে নিজ বাড়িতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক সালিশীতে তার ওয়ারেশগণের মধ্যে উভয়ের সন্মতিতে একটা বন্টননামা প্রস্তত করা হয়। সেই বন্টননামা মোতাবেক মৃত আঃ ওহাব ফারাজীর ৩ পুত্র এবং ৪ কন্যার মধ্যে তার সকল জমিজমা ভাগবাটোয়ারা করে লিখিত বন্টননামা প্রস্তুত করে সালিশে ওয়ারেশগণ এবং উপস্থিতিগণের স্বাক্ষর করানো হয়। এ বন্টননামা সকল ওয়ারেশদের মধ্যে কপি করে দেওয়া হয়।
বন্টননামা মোতাবেক মৃত ওহাব ফারাজীর ৩ সন্তান শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থেকে জমি জমা ভোগ দখল করে আসছে। ইতোমধ্যে বন্টননামার ভিত্তিতে চার কন্যা তাদের জমি বিক্রি করেছে। তিন পুত্র যথাক্রমে মতিয়ার রহমান ফারাজী, আতিয়ার রহমান ফারাজী ও আঃ মান্নান ফারাজীর মধ্যে একমাত্র জীবিত আতিয়ার রহমান ফারাজী তার দখলে থাকা বিআরএস ২২১৩ খতিয়ানের ১০২৩০ দাগের ১৭ শতক জমি ভাইপো মৃত মতিয়ার রহমানের পুত্র মুজিবর রহমানের নিকট বিক্রি করে। উল্লেখিত জমিতে মুজিবর রহমান ফারাজী কলাগাছের চাষ করে। উল্লেখ্য উক্ত জমি ওহাব ফারাজীর ৩ পুত্রের পূর্বের ভাগ অনুযায়ী ২২১৩ খতিয়ানের ১০২৩০ দাগে ৩ টা প্লটও রয়েছে। চাচা আতিয়ার রহমান ফারাজীর ১৭ শতকের প্লটই ভাইপো মুজিবর রহমান ফারাজী ক্রয় করেছে। উক্ত জমির পাশে একই দাগে আরও ৩৬ শতক জমি খালি পড়ে আছে। আপন ছোট চাচা মৃত আঃ মান্নান ফারাজীর পুত্র দিঘলিয়া সরকারি এম এ মজিদ কলেজের প্রভাষক মোঃ রবিউল ইসলাম ফারাজী, যিনি প্রজাতন্ত্রের কর্মচারি হয়ে ফলন্ত কলাগাছ কাটার নির্দেশ দিলেন। আর সব কলাগাছ কেটে সাবাড় করলেন তারই আজ্ঞাবাহক চিহ্নিত দুর্বৃত্তরা। এটা কি ফৌজদারি অপরাধ নয়?
অন্যদিকে মৃত আঃ ওহাব ফারাজীর ৪ কন্যার ৩ কন্যার জমি কিনেছেন মৃত মতিয়ার রহমান ফারাজীর পুত্র মোঃ শাহজাহান ফারাজী। এক বোনের অংশ ক্রয় করেছেন প্রভাষক রবিউল ইসলাম ফারাজী। শাহজাহান ফারাজী অভিযোগ করে এ প্রতিবেদককে বলেন, উক্ত জমির জলাশয়ের মাছ আমি ধরতে গেলে আমাকে পুলিশ দিয়ে বাধা প্রদান করলো। আমার অজান্তে সেই জমির সম্পূর্ণ মাছ বিক্রি করে নিয়েছে। মতিয়ার রহমান ফারাজীর পুত্র মুজিবর রহমান ফারাজী ও শাহজাহান আলী ফারাজী এ প্রতিবেদককে জানান, আঃ মান্নান ফারাজীর পুত্র প্রভাষক রবিউল ইসলাম ধলু ফারাজী ও সজিব ইসলাম রাজার হুমকি ধামকি, একঘেয়েমী আচরণ, জুলুম ও অত্যাচারে আমরা সবাই অতিষ্ঠ। আমরা রবিউল ও তার ভাইয়ের এহেন ন্যাক্কার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সুবিচার চাই।