চাঁদপুর শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকায় স্থানীয়ভাবে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে ছয় জন আহত এবং ওয়ারলেস বাজার জামিয়া ইসলামিয়া ফজলুল উলুম মাদ্রাসায় ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার(২৪ মে) সন্ধ্যা নাগাদ ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় এক পর্যায়ে একটি মার্কেটে আগুন দেওয়া হয়। মার্কেটে থাকা হার্ডওয়ারের গোডাউনে কেমিক্যালের আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশেপাশের ভবনে। ফলে পাশে থাকা জামিয়া ইসলামিয়া ফজলুল মাদ্রাসা ও মসজিদ মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
পুড়ে যায় মাদ্রাসার বই-পুস্তক, কোরআন শরীফ, এতিম শিশুদের আসবাবপত্র। আগুনের তীব্রতা আরও ভয়াবহ আকারে ধারণ করার পূর্বেই ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিস দুটো ইউনিট এবং স্থানীয় জনতার সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। কেমিক্যালের ধোঁয়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সাধারণ মানুষ বলাবলি করছে বিএনপি'র দুই গ্রুপের উত্তেজনায় বলি হলো স্থানীয় একটি মাদ্রাসা। ঘটনাটি শহরবাসীর মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে স্থানীয় বিএনপি দু'পক্ষের আধিপত্যের কারণেই এই অগ্নিকান্ড ঘটে। এখানে এতিম শিশুরা পড়াশোনা করে, এই মাদরাসা মার্কেটে আগুন দেয়ার ফলে মাদ্রাসা এবং শিক্ষার্থীদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। প্রশাসনের কাছে আমাদের দাবি, মাদ্রাসা এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষতিপূরণ সহ এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে উচ্ছেদ অভিযানের পর দোকানে চাঁদাবাজি এবং স্থানীয় গরুরহাটের ইজারা নিয়ে যুবদলের বোরহান গাজী,সফিক গাজী ও ছাত্রদলের মিশু গ্রুপের মধ্যকার হামলা, সংঘর্ষ,ধারালো অস্ত্রের মহড়া ও মাদ্রাসায় আগুন দেয়া হয়। রোববার বিকেল ৪টার দিকে ওয়ারলেস মোড়ে প্রথমে হামলার ঘটনা ঘটে।এই ঘটনায় শফিক গাজী ও মিশু সহ ৬ জন আহত হয়ে চাঁদপুর জেলা হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়েছে। আরিফুল ইসলাম মিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে, চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
ওসি ফয়েজ আহমদ বলেন, এই ঘটনায় অভিযুক্ত বোরহান গাজীকে আটক করা হয়েছে। সাতজনকে আসামি করে আহতদের এক স্বজন মারামারির মামলা করেছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।