লক্ষ্ণীপুরে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব

এফএনএস (নিজস্ব প্রতিবেদক) :
| আপডেট: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম | প্রকাশ: ১৬ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
লক্ষ্ণীপুরে ৯ দিনব্যাপী শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসব

লক্ষ্ণীপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় শহরের শ্যামসুন্দর জিউর আখড়া ও শ্রীশ্রী পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য মহাপ্রভুর মন্দির থেকে রথসহ বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন মন্দির কমিটির নেতৃবৃন্দ এবং জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক মানিক সাহা, কেন্দ্রীয় যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহাসহ বিপুলসংখ্যক সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ অংশ নেন। ভক্তদের ধর্মীয় সঙ্গীত, কীর্তন ও জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো শহর।

আয়োজকরা জানান, পুণ্য তিথিতে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রা নিজ নিজ রথে শোভাযাত্রাসহ মূল মন্দির থেকে সপ্তাহব্যাপী ‘মাসির বাড়ি’ গমন করেন। এই ঐতিহ্যবাহী যাত্রাকেই রথযাত্রা বলা হয়। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথের দড়ি টানলে পুণ্য লাভ হয়। তাই ভক্তরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে রথের দড়ি টেনে ধর্মীয় আচার পালন করেন।

জানা যায়, প্রায় একশ বছর ধরে শহরের কালিতলা এলাকার কালিমাতা মন্দির কমিটির উদ্যোগে রথযাত্রা উৎসব পালিত হয়ে আসছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, রথযাত্রার সময় জগন্নাথ দেব বা শ্রীকৃষ্ণ নীলাচল থেকে সুন্দরাচলে গমন করেন এবং সেখানে আটদিন অবস্থান করেন। ভক্তদের মধ্যে রথের রশির প্রতি বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস রয়েছে। অনেকে রথের রশির ছোট ছোট অংশ সংগ্রহ করে মাদুলি হিসেবে শিশুদের হাতে বা গলায় পরিয়ে দেন। তাদের বিশ্বাস, এটি অশুভ শক্তি, বিপদ-আপদ ও দুঃস্বপ্ন থেকে রক্ষা করে এবং রোগ-ব্যাধি থেকে দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক হয়।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, জগন্নাথ দেব জগতের অধীশ্বর। তাঁর অনুগ্রহে মানুষের মুক্তিলাভ সম্ভব-এমন বিশ্বাস থেকেই ভক্তরা রথযাত্রায় অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর আগে সকালে মন্দিরে বিশ্বশান্তি কামনায় যজ্ঞ, পূজা ও বিভিন্ন মঙ্গলাচরণ অনুষ্ঠিত হয়। রথযাত্রাকে ঘিরে শাড়ি, ধুতি, পাঞ্জাবি, ফতুয়াসহ নানা রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে সব বয়সী ভক্তরা উৎসবে অংশ নেন। একই সঙ্গে জেলার রায়পুর, রামগঞ্জ, কমলনগর ও রামগতি উপজেলার বিভিন্ন মন্দিরেও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে রথযাত্রা উদযাপিত হয়। আগামী ৫ জুলাই বিকেল ৩টায় উল্টো রথের শোভাযাত্রার মাধ্যমে ৯ দিনব্যাপী এই ধর্মীয় উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে।