পুঠিয়ায়

ভাড়াটিয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা, যুবদল নেতা গ্রেফতার

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) :
| আপডেট: ৭ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম | প্রকাশ: ৭ জুন, ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
ভাড়াটিয়াকে গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা, যুবদল নেতা গ্রেফতার

রাজশাহীর পুঠিয়ায় এক ভাড়াটিয়া নারীকে আপত্তিকর অপবাদ দিয়ে বাড়ি ভাঙচুর, অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট এবং পরবর্তীতে তাকে দুই দফায় গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত ৪ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে উপজেলার ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া ও উজালপুর এলাকায় পৃথক স্থানে এই বর্বর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে পুঠিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ নম্বর আসামি যুবদল নেতা মুরাদকে গ্রেফতার করেছে।

‎অভিযুক্ত আসামিরা হলেন, জিউপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সাইফুল (৪০), যুবদল নেতা মুরাদ (৩৮) (গ্রেপ্তারকৃত), পুঠিয়া উপজেলা যুবদলের সদস্য বুলবুল (২৮), জিউপাড়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি ফিরোজ (৩৫) এবং শ্রমিকদল নেতা সুমন (৩২) এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী গত ১ জুন ধোপাপাড়া কারিগরপাড়া এলাকায় সোহেলের বাড়ি ভাড়া নেন এবং ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে সেই বাড়িতে ওঠেন। ওই দিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে আকাশ (১৬) নামের এক কিশোরকে ওই নারীর বাড়ির সামনে দেখে আসামিরা তাদের জড়িয়ে অনৈতিক কাজের মিথ্যা অপবাদ দিতে শুরু করে।

‎একপর্যায়ে আসামিরা বাড়ির গেট ও জানালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে। ঘরে ঢ়ুকে ৫ নম্বর আসামি বুলবুল চালের ড্রামে থাকা পার্স থেকে নগদ ২৫,০০০ টাকা ও ২২,০০০ টাকা মূল্যের রুপার (চাঁদির) নুপুর এবং ৪ নম্বর আসামি সুমন ৪০,০০০ টাকা মূল্যের একটি অপো (ঙচচঙ) মোবাইল ফোন লুট করে নেয়।

‎দুই দফায় ধর্ষণ

‎লুটপাটের পর ১ নম্বর আসামি সাইফুল ঘরের দরজা বন্ধ করে ভুক্তভোগী নারীকে জোরপূর্বক প্রথম দফায় ধর্ষণ করে। এরপর ৩ নম্বর আসামি ফিরোজ তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে উজালপুর গ্রামের একটি নির্জন মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে ফিরোজ ফোন করে ২ নম্বর আসামি মুরাদকে ডেকে আনে। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে মুরাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই নারীকে মাঠের মধ্যে পুনরায় ধর্ষণ করে।

‎ধর্ষণের পর আসামি ফিরোজ তাকে মোটরসাইকেলে করে বাঁশবাড়ী বাজারে পৌঁছে দিলে ভুক্তভোগী নারী সেখান থেকে ভ্যানযোগে নাটোরের নলডাঙ্গায় তার গ্রামের বাড়িতে চলে যান। পরবর্তীতে পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের সাথে পরামর্শ করে তিনি পুঠিয়া থানায় এসে এজাহার দায়ের করেন। এ ব্যাপারে পুঠিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদুল ইসলাম বলেন,থানা মামলার করার আমরা তাৎক্ষণিক মুরাদ নামের একজন আসামীকে আটক করেছি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে