ভূরুঙ্গামারীতে ইলেকট্রিক শক মেশিন, ব্যাটারি ও জাল জব্দ

এস.এম গোলাম মোস্তফা; ভুরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম | প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২৬, ১১:১৮ এএম
ভূরুঙ্গামারীতে  ইলেকট্রিক শক মেশিন, ব্যাটারি ও জাল জব্দ
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও কচাকাটা থানার সীমান্তবর্তী নদীগুলোতে ইলেকট্রিক শক দিয়ে মাছ নিধনের বিরুদ্ধে গভীর রাতে পুলিশের অভিযানে কারেন্ট শক দেওয়ার একাধিক যন্ত্র, ব্যাটারি ও মাছ ধরার জাল জব্দ । সোমবার (৯ জুন) রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার (১০ জুন) ভোর ৩টা পর্যন্ত ভূরুঙ্গামারী থানাধীন দুধকুমার নদে এবং কচাকাটা থানার সীমান্ত সংলগ্ন গঙ্গাধর, সংকোশ নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদে এ অভিযান পরিচালনা করে পুলিশের একটি টহলটীম। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে অসাধু জেলেরা নৌকা, ব্যাটারি, ইলেকট্রিক শক মেশিন ও বিভিন্ন ধরনের জাল ব্যবহার করে রাতের আঁধারে মাছ শিকার করে আসছিল। ইলেকট্রিক শকের মাধ্যমে শুধু মাছই নয়, নদীর উপকারী জলজ প্রাণীও নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে। এতে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন মুন-এর নেতৃত্বে কচাকাটা থানা পুলিশের একটি দল গংগাধর, সংকোশ ও ব্রহ্মপুত্র নদে গভীর রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জেলেরা নদীতে লাফ দিয়ে পালিয়ে যায়। তবে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধভাবে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত একাধিক কারেন্ট শক মেশিন, ব্যাটারি ও জাল জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অসাধু জেলেদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। একসময় এসব নদীতে মাছের প্রাচুর্য ছিল। কিন্তু ইলেকট্রিক শকের মতো নিষ্ঠুর পদ্ধতিতে মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী নিধনের কারণে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে জাল ফেলে মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এখনই সচেতনতা সৃষ্টি ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এসব নদী থেকে জলজ প্রাণী বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” পুলিশ জানিয়েছে, নদীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং অবৈধ মাছ শিকার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে।
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে