দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ‘আনোয়ারা-বাঁশখালী-টইটং-পেকুয়া-বদরখালী-চকরিয়া আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্প’ অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটির অনুমোদন দেওয়া হয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সভায় ১০টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৩ হাজার ৮৯০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩ হাজার ৮১০ কোটি ৬২ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। আনোয়ারা-চকরিয়া প্রকল্পটি অনুমোদিত ১০টি প্রকল্পের অন্যতম। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রস্তাবিত সড়কটি কালাবিবির দিঘি থেকে শুরু হয়ে বর্তমানে চকরিয়া (ঈদমনি) পর্যন্ত ৫৮.২০ কিলোমিটার সড়ক যথাযথ মানে উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের মাধ্যমে ১০.৩০ মিটারে উন্নীত করা হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম। এই সড়ক দিয়ে বাঁশখালী ইকোপার্ক, বাঁশখালী সমুদ্র সৈকত, বাঁশখালী বৈলগাঁও চা বাগান, নৌবাহিনীর সাবমেরিন ঘাঁটি, কক্সবাজার মাতারবাড়ী কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বাঁশখালী গন্ডামারা কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, কেইপিজেড, চকরিয়া, পেকুয়া, কক্সবাজার এবং বিভিন্ন শিল্প কারখানায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ফলে এই সড়ক যানবাহনের তুলনায় অপ্রশস্থ হওয়ায় প্রায়শই যানজট সৃষ্টি হয় ও দুর্ঘটনা ঘটে। তাই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অত্র এলাকায় নিরাপদ ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে এবং দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে। এছাড়া, প্রায় ৫৮.২০ কিলোমিটারের এ সংযোগ সড়কটি কর্ণফুলী টানেল হয়ে সরাসরি কক্সবাজারের চকরিয়া-বদরখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে সংযুক্ত করবে। যার কারণে প্রকল্পটি এলাকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে এবং প্রায় ২০০০ লোকের অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।
পরিকল্পনাবিদরা জানান, বর্তমানে ঢাকা হতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর গামী যানবাহন, পণ্য পরিবহনে কর্ণফুলী টানেল হতে আনোয়ারা-শিকলবাহা ওয়াই জংশন-পটিয়া বাইপাস-গাছবাড়িয়া (চন্দনাইশ)-চকরিয়া-বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে ১৩১ কিঃমিঃ সড়ক পথ পাড়ি দিতে হয়। উল্লিখিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে যানবাহনসমূহ কর্ণফুলী টানেল হতে কালাবিবির দিঘী-বাঁশখালী টইটং- পেকুয়া চকরিয়া (ঈদমনি)- বদরখালী-মাতারবাড়ী রুটে ৯১ কিঃমিঃ পথ পাড়ি দিতে হবে, সেক্ষেত্রে প্রায় ৪০ কিঃমিঃ দূরত্ব হ্রাস পাবে ও প্রায় ১ ঘণ্টা সময় কর্মঘন্টা সাশ্রয় হবে এবং কক্সবাজার গামী যানবাহন ও পণ্যবাহী গাড়ি কর্ণফুলী টানেল হয়ে কালাবিবির দিঘী- বাঁশখালী টইটং- পেকুয়া একতাবাজার অথবা ঈদমনি-চকরিয়া কক্সবাজার রুটে চলাচল করলে প্রায় ২৮ কি.মি. দূরত্ব হ্রাস পাবে ও প্রায় ৪৫ মিনিট সময় সাশ্রয় হবে। যা জাতীয় স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে প্রকল্পটি বিবেচিত হয়েছে। সড়ক ও জনপদ বিভাগের তথ্য মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে ৩০.৮৬ হেক্টর, সড়ক বাঁধ প্রশস্তকরণ (মাটিরকাজ) করতে হবে ১৪১০৭৮৩.৮২৭ ঘঃমিঃ, বিদ্যমান পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ
৪৪.৩৮৯ কি:মি:, বিদ্যমান পেভমেন্ট মজবুতিকরণ ৪৪.৩৮৯ কি:মি:, সার্ফেসিং ৪৮.০৪৮ কি:মি: রিজিড (আরসিসি) পেভমেন্ট নির্মাণ ১০.১৫২ কি:মি:, বাস-বে নির্মাণ (৩০টি) ৪.৫০ কি:মি:, আরসিসি বক্স কালভার্ট নির্মাণ (৭৮টি) ৫০৩.০০ মি:, আরসিসি বক্স কালভার্ট প্রশস্তকরণ (১৩টি) ৪৮.৮০ মি:, আরসিসি ইউ ড্রেন নির্মাণ ৯৯৯০,০০ মি:, সসার ড্রেন নির্মাণ ১৫০০০.০০ মি:,
সিসি ব্লক উইথ জিও-টেক্সটাইল ১২০০০.০০ ব:মি:,
আরসিসি রিটেইনিং ওয়াল ২০০০.০০ মি:, এমএস পাইপ প্যালাসাইডিং ৩০০০.০০ মি:, নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণ
৫৮.২০ কি:মি:। এবিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগ চট্টগ্রাম দক্ষিণের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, প্রকল্পটি খসড়া প্রণয়ন করে অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠানো হয়েছিলো। আজ একনেক সভায় জনগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় প্রকল্পটি অনুমোদন হয়। এখন প্রকল্পটি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় যাবে। সব ঠিকঠাক থাকলে আশা করছি আগামী জানুয়ারি থেকে প্রকল্পটির কাজ শুরু হবে।