ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা পদ্মা নদীর গোপালপুর ও চর মৈনট ঘাটের মধ্যবর্তি জল সীমানায় গত মঙ্গলবার সন্ধায় বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে চলন্ত ষ্পিট বোট থামিয়ে সাড়ে ৪ লাখ টাকার ইঞ্জিন ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আক্রান্ত ষ্পিট বোটে থাকা মাত্র একজন যাত্রী লিটন মেল্যাা (৩৫) ডাকাত দলের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন এবং উক্ত যাত্রীর কাছ থেকে ডাকাত দল নগদ ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যপারে চরভদ্রাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বুধবার দুপুরে ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে বলেন, “ডাকাতির ঘটনাটি পদ্মা নদীর দোহার থানার জল সীমানার মধ্যে ঘটেছে। তাই আমাদের থানায় মামলা হচ্ছে না। ডাকাতির ঘটনাটি তদন্ত করবে নৌ পুলিশ। তবে স্পিট বোটে ডাকাতিকালে পদ্মায় কোনো নৌ পুলিশের টহল ছিল না বলে জানতে পেরেছি”। ডাকাত দলের কবলে পড়া ষ্পিট বোট ড্রাইভার সঞ্জয় সরকার (৩৮) জানায়, ঘটনার দিন সন্ধায় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দোহার উপজেলার চর মৈনট ঘাট থেকে মাত্র একজন যাত্রী নিয়ে চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর ঘাটের উদ্দেশ্যে স্পিট বোট নিয়ে বাড়ী ফিরছিলাম। মাঝামাঝি পদ্মায় পৌছা মাত্র পদ্মা নদীর দক্ষিন জল সীমানা থেকে ১৫/১৬ জনের ডাকাত দল বড় আরেকটি ষ্পিট বোট নিয়ে এসে তাকে ধাওয়া করে। এ সময় সঞ্জয় সরকার তার ষ্পিট বোট নিয়ে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্ত পদ্মা নদীতে জেলেদের পাতা কারেন্ট জালে ষ্পিট বোটের পাখা জড়িয়ে গতি কমে যায়। ফলে সঞ্জয় সরকার আক্রান্ত ষ্পিট বোটটি মাঝ পদ্মার চরে ঠেকিয়ে রেখে কাশবনের মধ্যে পালিয়ে যায়। পরে দেশীয় ও আগ্নে অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাত দল আক্রান্ত ষ্পিট বোটে থাকা যাত্রী লিটন মোল্যাকে রাম দ্যা দিয়ে কোপ মেরে বা হাতে আহত করে এবং তার কাছ থেকে নগদ ১২ হাজার টাকা লুটে নেয়। একই সাথে ডাকাত দল আক্রান্ত ষ্পিট বোটের সাড়ে ৪ লাখ টাকা মূল্যমানের ইঞ্জিনটি খুলে নিয়ে যায়। এ ব্যাপারে দোহার থানার নৌ পুলিশের তত্ত্বাবধানে একটি মামলা প্রক্রীয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। এ ব্যপারে উপজেলা পদ্মা নদীর ঘাট কর্তৃপক্ষ জানায়, “নৌ পুলিশের অবহেলা, গাফলাতি ও অপতৎপরতার কারনে পদ্মা নদীতে জল দস্যুতা ঘটে চলেছে”।