ঘরে চোর ঢোকানোর পথ পাহারাদার নিজেই খুলে দিলে তাকে গাফিলতি বলা যায় না, বরং তা বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভান্ডার থেকে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য বেহাত হওয়ার কেলেঙ্কারি কাটতে না কাটতেই আবারও বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য- ভোটারদের ভোটকেন্দ্র জানাতে তৈরি করা একটি অ্যাপের মাধ্যমে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ছবিসহ ২৮টি ডেমোগ্রাফিক তথ্য। অথচ মাত্র চারটি সাধারণ তথ্য দিয়েই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল। এটি নিছক কারিগরি ত্রুটি নয়; বরং দায়িত্বশীলদের অযোগ্যতা, নৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং সম্ভাব্য তথ্য বাণিজ্যের ইঙ্গিত। কোটি কোটি নাগরিকের স্পর্শকাতর তথ্য তৃতীয় পক্ষের হাতে তুলে দেওয়া মানে তাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও সার্বভৌমত্বকে নিলামে তোলা। এর ফলে নাগরিকরা অপরাধচক্রের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছেন-ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খালি করা, জাল নথি তৈরি কিংবা ব্যক্তিগত গতিবিধি নজরদারির মতো ভয়াবহ ঝুঁকি এখন হাতের নাগালে চলে গেছে। ইসির কর্মকর্তারা এখন দায় এড়াতে একে-অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাচ্ছেন। কিন্তু সত্য হলো, এই তথ্য ফাঁসের কারণে ধসে পড়েছে আমাদের তথ্যগত গোপনীয়তা। প্রশ্ন হলো, এর দায় কে নেবে? সরকার কি তদন্ত কমিটির নামে সময়ক্ষেপণ করে এই জাতীয় অপরাধকে আড়াল করবে, নাকি অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে? আমাদের মতে, নাগরিক আস্থা পুনরুদ্ধারের একমাত্র পথ হলো কঠোর পদক্ষেপ। তথ্য নিরাপত্তায় অবহেলা বা দুর্নীতি কোনোভাবেই ক্ষমার যোগ্য নয়। জনস্বার্থে এই কেলেঙ্কারির সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুততম সময়ে এই তথ্য ফাঁসের দায় নির্ধারণ করবে এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করবে। নইলে নাগরিক আস্থা চিরতরে বিলীন হয়ে যাবে, আর ডিজিটাল বাংলাদেশ কেবল কাগুজে স্লোগান হয়ে থাকবে।