সৈয়দপুরে

রেলের জমিতে ব্যবসা, কাগজপত্র নেই তবুও বিদ্যুৎ সংযোগ

এফএনএস (ওবায়দুল ইসলাম; সৈয়দপুর, নীলফামারী) : | প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২৬, ০৫:২৭ পিএম
রেলের জমিতে ব্যবসা, কাগজপত্র নেই তবুও বিদ্যুৎ সংযোগ

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মূল্যবান জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশের কাছে জমির মালিকানা বা বৈধ লিজের কোনো কাগজপত্র নেই। তবুও তারা বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শহরের রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকা, গোলাহাট, বাঁশবাড়ী, মুন্সিপাড়া, নতুন বাবুপাড়া, রেললাইন উভয় পাশ্বে ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেলের জমির ওপর শত শত দোকান, মার্কেট ও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারলেও নিয়মিত বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারি এবং প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অবৈধ স্থাপনা বছরের পর বছর টিকে আছে। ফলে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি রেলওয়ের গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তিও দখল হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অবৈধ দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে কিন্তু তাও অজ্ঞাত কারণে স্থাগিত হয়ে যায়।। রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, সৈয়দপুরে প্রায় সাড়ে ৮০০ একর রেলভূমির একটি বড় অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দখলে রয়েছে। সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানে একাধিক অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তবে লোক দেখানো কয়েকটি স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে।এদিকে সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে, জমির বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কীভাবে এসব প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, রেলের জমি দখল করে গড়ে ওঠা অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন নামে বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহণ করেছে। ফলে অবৈধ দখলদাররা সরকারি সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রেলওয়ের জমি উদ্ধার এবং অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় দখলদারদের সংখ্যা আরও বাড়বে এবং রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে রেলওয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও রেলভূমি পুনরুদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধভাবে সরকারি সেবা গ্রহণের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে। সৈয়দপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ (নেসকোর) আবাসিক নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, রেলের জমিতে গড়ে ওঠা দোকানে অনেক আগে সংযোগ দেয়া হয়েছিল। তবে এখন কাগজপত্র ছাড়া সংযোগ দেয়া হচ্ছে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে