পদ্মার চরে দূর্বৃত্তের গুলিতে ৮ মাসের ব্যবধানে ৬ জন খুন হয়েছে। ৬ খুনের কোন আসামীকে পুলিশ চিহৃত করে গ্রেফতার করতে পারেনি। খুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের পদ্মার চরে। পুলিশের তালিকায় পদ্মার চরে গড়ে উছেছে ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। তারা দিনের পর দিন চরের মানুষকে জিম্মি করে অত্যাচার, নির্যাতন ও গুলি করে হত্যা করা হচ্ছে।
জানা গেছে, পদ্মার চর এলাকা ভারতের সীমান্ত হওয়ায় অবৈধভাবে সন্ত্রাসী বাহিনী ভারত থেকে অতি সহজে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে বলে স্থানীয়রা জানান। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের নীচ খানপুরের হবিরচরের দক্ষিণে চৌদ্দহাজার মাঠে খড় কাটাকে কেন্দ্র করে গোলাগুলিতে বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুরের মিনহাজ মন্ডলের ছেলে আমান মন্ডল, একই গ্রামের শুকুর মন্ডলের ছেলে নাজমুল হোসেন নিহত হন। পর দিন ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে কুষ্টিয়ার লিটন হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার দুই মাস পর ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে সোহেল রানাকে হত্যা করা হয়। সোহেল রানা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরের কালু মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০টি আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় তৈরি ২টি বন্দুক, ৭টি পিস্তল, ২৪ রাউন্ড কার্তুজ, ৫টি মোটরসাইকেল, মাদকদ্রব্য, ইঞ্জিনচালিত নৌকা, স্পিডবোট, অস্ত্র রাখার সিলিন্ডার, ছয়টি বড় ডেগার, ২২টি হাঁসুয়া, চারটি ছোরা, দুটি চাপাতি, একটি দা, একটি লোহার পাইপ, একটি টিউবওয়েল ও একটি চকি উদ্ধার করে।
এদিকে ১৮ মে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল গভীর রাতে হামলা চালিয়ে স্বপন বেপারী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে এবং তার লাশ ট্রলারে করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর স্বপন বেপারীর ২৩ দিনেও সন্ধান পায়নি পরিবার। সর্বশেষে ৯ জুন পদ্মার চরের নীচ খানপুরের হবিরচরের দক্ষিণে চৌদ্দহাজার মাঠের পাশে রায়টা এলাকার চর জাজিরা নামক স্থান থেকে নৌপুলিশ আজিজুল হাকিম ঝড়ু নামের এক যুবকের স্পিডবোডের ভেতর থেকে উদ্ধার করে। আজিজুল হাকিম ঝড়ু বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি পাবনা পাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে। এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, প্রশাসনের তালিকায় পদ্মার চরের ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম রয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে- কাঁকন বাহিনী, মন্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ-নাহারুল বাহিনী। এসব বাহিনী একের পর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে। তবে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে কয়েক দফায় ২০৩ জনকে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।