চলে গেল মধুমাস গ্রীষ্মকাল। কখনো হালকা ও ভারি বৃষ্টি আবার কখনো ভ্যাপসা গরম। সহ্য অসহ্যের মধ্যদিয়ে গ্রীষ্মকালের অবসান। আজ শুরু হল আষাঢ় মাস। আষাঢ় ও শ্রাবন মিলে বর্ষাকাল। অসহ্য গরম ও খরতাপের পর অবশেষে স্বস্তির বৃষ্টি নেমেছে নীলফামারীর সৈয়দপুরে। বৃষ্টিতে ধুলোবালি ধুয়ে গেছে,কমেছে তাপমাত্রা। বৃষ্টির পানিতে ভিজে প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে তার চিরচেনা সতেজ রূপ। স্থানীয়দের মতে, এ বৃষ্টির মধ্য দিয়েই কার্যত বর্ষাকালের সূচনা হলো। শুক্রবার ভোর থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও শনিবার সকালের দিকে শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। পরে তা কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণে রূপ নেয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশের ফলে বর্ষাকালের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে।
বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি পেয়েছেন শ্রমজীবী মানুষ। কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। বৃষ্টির ফলে জমিতে আর্দ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমন ধানের চাষাবাদ ও বিভিন্ন মৌসুমি ফসলের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি অফিস। শহরের বিভিন্ন এলাকায় শিশু-কিশোরদের বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ করতে দেখা যায়। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বর্ষার প্রথম বৃষ্টির ছবি ও ভিডিও শেয়ার করেন। তবে কয়েকটি নিচু এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতারও সৃষ্টি হয়। ব্যবসায়ি ও সমাজসেবক আক্তার হেসেন ফেকু বলেন,গত কয়েক সপ্তাহের গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল মানুষজন ও প্রাণীকুল। শনিবারের একটু বৃষ্টিতে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছে সবাই। সৈয়দপুর বিমানবন্দর আবহাওয়া অফিস সূত্র জানিয়েছে,আগামী কয়েকদিন বৃষ্টি হতে পারে। ফলে তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমে আসবে এবং বর্ষার আমেজ ছড়িয়ে পড়বে পুরো অঞ্চলে। প্রকৃতির এই সজীব রূপে সৈয়দপুরবাসী এখন স্বাগত জানাচ্ছে নতুন বর্ষাকে। মাঠ-ঘাট, গাছপালা ও জনজীবনে নেমে এসেছে এক নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।