নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গঠিত বিশেষায়িত হাইকোর্ট বেঞ্চ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। রোববার (১৪ জুন) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত এই বেঞ্চে প্রথম কার্যদিবস অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে, এসব মামলার শুনানিতে কোনো ধরনের অযথা বিলম্ব হতে দেওয়া হবে না।
অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ডের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেছেন। প্রথম কার্যদিবসেই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ২০টি মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই তালিকায় স্থান পেয়েছে দেশের বহুল আলোচিত কয়েকটি মামলা। এর মধ্যে রয়েছে মাগুরার শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলা এবং ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলা। আলোচিত এসব মামলার অন্তর্ভুক্তি বিচারপ্রত্যাশীদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, “রাষ্ট্রের অবস্থান হচ্ছে, প্রতিটি মামলার শুনানির জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস প্রস্তুত রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে কোনো মামলায় মুলতবি গ্রহণ করা হবে না।”
মাগুরার আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে হবে কি না, সে প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে আদালতের পর্যবেক্ষণের কথা তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, “২০১৯ সালের বেশ কিছু মামলা দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট আসামিরা মৃত্যুদণ্ড নিয়ে অবস্থান করছেন। সেসব মামলাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রয়েছে। তবে সুযোগ থাকলে আছিয়ার মামলাটিও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানি করা যেতে পারে।”
নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির দাবির প্রেক্ষাপটে গত মঙ্গলবার (১০ জুন) প্রধান বিচারপতি এই বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ও আইনজীবীদের আবেদনের পর নেওয়া এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা।
এদিকে বেঞ্চ গঠনের পর রাষ্ট্রপক্ষ রামিসা হত্যা মামলার শুনানির জন্যও একটি বিশেষ টিম গঠন করেছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের নেতৃত্বে এই টিম বিরতিহীনভাবে মামলাগুলোর শুনানি পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের আশা, বিশেষায়িত এই বেঞ্চের মাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের গুরুতর মামলাগুলোর বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।