১৯৭১ সালে যুদ্ধ ঘোষণায় জাতিকে দিক দেখিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: তথ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৪ জুন, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম
১৯৭১ সালে যুদ্ধ ঘোষণায় জাতিকে দিক দেখিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান: তথ্যমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ঘোষণাই চলমান রাজনৈতিক সংগ্রামকে মুক্তিযুদ্ধে রূপ দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা ও বিকাশেও জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনের সব ধরনের ঝুঁকি উপেক্ষা করে জিয়াউর রহমান বিদ্রোহ ও যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ভাষায়, “তিনি কোনো নির্দেশনা বা পুনর্বিবেচনার অপেক্ষা না করে পাকিস্তানি সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তাঁর সেই সিদ্ধান্তই রাজনৈতিক সংগ্রামকে মুক্তিযুদ্ধে রূপ দেয় এবং জাতিকে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেয়।”

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তৎকালীন সময়ের অনেকেই সশস্ত্র যুদ্ধকে বাস্তব কর্মসূচি হিসেবে ভাবতে পারেননি। কিন্তু জিয়াউর রহমান সেই সংগ্রামকে স্বাধীনতার যুদ্ধে রূপান্তর করেছিলেন। “তাঁর ঘোষিত যুদ্ধের মধ্য দিয়েই স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি রচিত হয় এবং বিজয়ের পথ সুগম হয়”, যোগ করেন তিনি।

গণমাধ্যম প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং সংবাদপত্র বাতিলের আইন দেশের গণমাধ্যমকে সংকটের মুখে ফেলেছিল। “শহীদ জিয়া না থাকলে গণমাধ্যমকে সেই অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হতো কিনা, ইতিহাসে সেই প্রশ্ন রয়েছে”, মন্তব্য করেন তিনি।

তার দাবি, জিয়াউর রহমান শুধু গণমাধ্যমকে পৃষ্ঠপোষকতাই করেননি, ভিন্নমত প্রকাশ ও সমালোচনার পরিবেশও তৈরি করেছিলেন। তিনি বলেন, “স্বাধীন গণমাধ্যমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তাঁর অবদান বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে স্মরণ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক নেতৃত্ব, দেশপ্রেম ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন দিকও তুলে ধরেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, একজন সামরিক কর্মকর্তা হয়েও তিনি একজন রাষ্ট্রনায়কের দূরদর্শিতা দেখিয়েছিলেন এবং ভিন্নমতকে সম্মান করার রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে কাজ করেছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন এবং রাষ্ট্র গঠনে তাঁর ভূমিকার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে