দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন, ভরিতে বাড়ল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ১৫ জুন, ২০২৬, ০১:২২ পিএম
দেশে আবারও স্বর্ণের দামে বড় উল্লম্ফন, ভরিতে বাড়ল ৫ হাজার ৪৮২ টাকা

দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৪২২ টাকায়। সোমবার (১৫ জুন) সকালে বাজুস এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় এবং জানায়, নতুন এই দর সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। এতে সাধারণ ক্রেতা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন করে চাপ ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে কাঁচা স্বর্ণের দামের ঊর্ধ্বগতিই মূলত খুচরা বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

নতুন দামের কাঠামো অনুযায়ী ২১ ক্যারেট স্বর্ণের প্রতি ভরি নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৯৮৩ টাকা। ১৮ ক্যারেট স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৪৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরি ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৫৭ টাকা।

এর আগে সর্বশেষ গত ১৩ জুন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সেবার ভরিতে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা, ডলারের দামের ওঠানামা এবং কাঁচা স্বর্ণের সরবরাহ সংকট স্থানীয় বাজারে দামের চাপ তৈরি করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিশ্লেষক বলেন, “বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে স্থানীয় স্বর্ণের দামে, বাংলাদেশও তার বাইরে নয়।”

চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে স্বর্ণের দাম ৭৫ বার সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৩৯ বার দাম বেড়েছে এবং ৩৬ বার কমেছে। ২০২৫ সালেও মোট ৯৩ বার সমন্বয়ের মধ্যে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল।

এদিকে শুধু স্বর্ণ নয়, রুপার দামও নতুন করে সমন্বয় করা হয়েছে। ২২ ক্যারেট রুপার ভরি ২৩৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপা ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৪ হাজার ৪৩২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৩২৪ টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বারবার মূল্য সমন্বয়ের কারণে স্বর্ণ বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীদের জন্যও বাজার পূর্বানুমান করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে