মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ব্যক্তিগত আক্রোশ ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জের ধরে স্থানীয় কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা চাঁদাবাজি ও লুটপাটের অভিযোগ দায়েরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়।
সোমবার (১৫ জুন) সকাল সাড়ে এগারোটায় ভবেরচর বাস স্ট্যান্ড এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান আওলাদ হোসেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের ভাষার চর গ্রামের আক্তার হোসেন নামের এক ব্যক্তি নদীর ঘাটলা নির্মাণ কাজে চাঁদা দাবি এবং চাঁদার টাকা না পেয়ে সেন্টারিং কাঠ, প্রায় ২০০ কেজি রড ও ১৫-২০ বস্তা সিমেন্ট লুট করে নেওয়ার এক কাল্পনিক অভিযোগ এনে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উক্ত অভিযোগে গ্রামের চারজন নিরীহ ও সম্মানিত ব্যক্তিকে বিবাদী করা হয়েছে। তিনি এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, প্রকৃতপক্ষে আক্তার হোসেনের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আক্তার হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন পক্ষান্তরে তারা ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ছিলেন। ওই নির্বাচন-পরবর্তী সময় থেকেই আক্তার হোসেন তাদের প্রতি চরম বিদ্বেষ পোষণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয়ভাবে তাদের হেয়প্রতিপন্ন করা, সামাজিকভাবে সম্মানহানি ও হয়রানির উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা চাঁদাবাজি ও লুটের নাটক সাজানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলা হয়, যদি ঘাটলা নির্মাণ কাজের কোনো মালামাল সত্যিই খোয়া গিয়ে থাকে তবে আইনগতভাবে অভিযোগ করার কথা সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের; কারণ তিনিই নিয়মিত নির্মাণ কাজ তদারকি করছেন। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এ ধরনের কোনো অভিযোগ করেননি এবং তিনি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কিন্তু আক্তার হোসেন নিজে বাদী সেজে চাঁদাবাজি ও মালামাল লুটের কাল্পনিক গল্প তৈরি করে প্রশাসন ও স্থানীয় সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করিয়েছেন। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মনির হোসেন, বাইজিদ হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।