ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় লাইসেন্স বাতিলের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে রাজধানীর আদ্ দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আনা কোটি কোটি টাকা নিয়ে তদবিরের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন আদ্ দীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, এমন অভিযোগ করা হয়ে থাকলে তার প্রমাণও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকেই দিতে হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের লাইসেন্স ফিরে পেতে মঙ্গলবার (১৭ জুন) আপিল করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৬ জুন) বিকেলে আদ্ দীন হাসপাতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, “টাকা নিয়ে কেন ঘুরব। এমন কিছু করিনি।” তিনি আরও বলেন, “আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরব? যদি তিনি এ ধরনের কোনো কথা বলে থাকেন, তাহলে সেটি তাকেই প্রমাণ করতে হবে।”
এর আগে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় গত বুধবার (১১ জুন) রাজধানীর মগবাজারের আদ্ দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করে সরকার। একই সঙ্গে তিন দিনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের অন্যত্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর হাসপাতালটির কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
লাইসেন্স বাতিলের প্রেক্ষাপটে গত শনিবার (১৪ জুন) নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল দাবি করেন, লাইসেন্স বাঁচাতে আদ্ দীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে। তিনি বলেন, “আদ্ দীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে। আল্লাহর রহমতে কোনো টাকার প্রতি লোভ হয়নি। আমি লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।”
মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল এবং এ ধরনের শাস্তি অন্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে।
তবে সেই বক্তব্যের পরদিনই সংবাদ সম্মেলনে এসে আদ্ দীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কখনও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে কোনো ধরনের অর্থ দেওয়ার চেষ্টা করেনি। লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি সুযোগ অনুযায়ী আপিল করা হবে।
ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, হাসপাতালের বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও কারিগরি ত্রুটি সংশোধনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হবে।
সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতালের চলমান সেবার বিষয়েও তথ্য তুলে ধরা হয়। জানানো হয়, রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দুর্নীতির অভিযোগ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাল্টা অবস্থান, সব মিলিয়ে আদ্ দীন হাসপাতালকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। হাসপাতালের আপিলের পর এ বিষয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট সবার।