মূল্যস্ফীতির চাপ সামাল দেওয়া, সরকারি ব্যয়ে অপচয় কমানো এবং অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় সংসদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট পেশ করা হয়েছে। সংশোধিত বাজেটে সরকারের মোট ব্যয় ২ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
সোমবার (১৫ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সপ্তম দিনে সংশোধিত ও সম্পূরক বাজেট উত্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বাজেট বক্তব্যে তিনি জানান, চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে সরকারের নিট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্বাচনপূর্ব সময়ে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি কিছুটা মন্থর হওয়ায় ব্যয় কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে অর্থনীতিকে গতিশীল করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকারি ব্যয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে অপচয় কমানো, অগ্রাধিকারহীন খাতে ব্যয় সংকোচন এবং প্রশাসনিক মিতব্যয়িতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের প্রয়োজন হলেও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম, পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের সম্মানী কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই সম্পূরক বাজেটে ব্যয় ও ঘাটতির সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বাজেট উপস্থাপনের পর স্পিকার সংসদের কার্যসূচি অনুযায়ী মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তিনি জানান, সংবিধানের ৮৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দায়যুক্ত ব্যয় সংসদে আলোচনা হলেও তা ভোটের আওতায় পড়ে না।
স্পিকারের তথ্য অনুযায়ী, এবারের সম্পূরক বাজেটে মোট ২৫টি মঞ্জুরি দাবি রয়েছে। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের ২০ জন সংসদ সদস্য ৩০৪টি ছাঁটাই প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছেন। এর মধ্যে অর্থ বিভাগ, পরিকল্পনা বিভাগ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ আটটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের খাতে উত্থাপিত ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে। অন্য দাবিগুলো সরাসরি ভোটে নিষ্পন্ন করা হবে।
সংশোধিত বাজেটের মাধ্যমে একদিকে সরকারি ব্যয় কিছুটা কমানো হয়েছে, অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদে ছাঁটাই প্রস্তাবের সংখ্যা এবং বিভিন্ন খাত নিয়ে আলোচনা চলতি অর্থবছরের ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও বাজেট বাস্তবায়নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।