খুলনা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদের পাড়ে খালিশপুর ও দৌলতপুরের পাশাপাশি দিঘলিয়া উপজেলায় বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে গড়ে ওঠা পাট শিল্প বিংশ শতাব্দী শেষ না হতেই শেষ হয়ে কাঁচা পাকা সব পাট শিল্প। কর্মহীন হয়ে পড়ে এ জনপদের অর্ধ লক্ষ মানুষ। সেই থেকে আজ অবধি অর্থনৈতিকভাবে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেনি শ্রমিক পরিবারগুলো।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে, বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে খুলনা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভৈরব নদের দুই পাড়ে গড়ে ওঠে স্টার জুট মিলস, ক্রিসেন্ট জুট মিলস, পিপলস জুট মিলস, প্লাটিনাম জুবলী জুট মিলস, দৌলতপুর জুট মিলস (মড়োয়ারী), এজাক্স জুট মিল, সোনালী জুট মিল, মহাসিন জুট মিল আফিল জুট মিল ও আলিম জুট মিল। আর এ মিলগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে কয়েক শত পাট গুদাম। এ সকল পাট গুদাম ও মিলগুলো ঘিরে অর্থনৈতিকভাবে মাথা উঁচু করে টিকে ছিল দিঘলিয়ার অর্ধলক্ষ শ্রমিক পরিবার। কিন্তু এ মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরই পাট গুদামগুলোও বিলুপ্ত প্রায়। শুধু তাই নয় ব্যাংকের ঋণে পরিচালিত এ পাট ব্যবসা কেন্দ্রগুলো বিলীন হওয়ার সাথে সাথে এ জনপদের শত শত মানুষ ব্যাংকের আইনের বেড়াজালে আটকে তাদের পাট গুদাম ও জায়গা জমিন সবই হারিয়ে বর্তমানে দেওলিয়া। এখনও অনেক পাটের গুদাম কালের সাক্ষী হয়ে ভঙ্গুর অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দিনে দিনে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ। সুবিধা ভোগী একটি মহল রাষ্টায়ত্ব ব্যাংকগুলোর এবং সরকারি পাট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আঁতাত করে অবৈধ ভাবে মালিক বনে গিয়ে গুদামগুলো রাতের আঁধারে ভেঙ্গে বিক্রি করে জমিও বিক্রি করে দিচ্ছে। ফলে বিংশ শতাব্দীতে গড়ে ওঠা পাটশিল্প কেন্দ্রের নাম নিশানা আর এলাকায় থাকছেনা। আগামীদিনে খুলনার শিল্প নগরী আবার জাগ্রত হবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সে অবস্থাটুকুও বেঁচে থাকছেনা এমনটাই জানিয়েছেন এলাকার সংশ্লিষ্টমহল। পক্ষান্তরে এই পাটশিল্প ও কাঁচাপাট গুদামকে ঘিরে এ জনপদের পাট ব্যবসায়ীদের সিসি লোনের হাজার কোটি টাকা ঋণের টাকা আজ অনাদায়ী পড়ে আছে। ব্যাংকগুলোর বড় বড় কর্মকর্তা, এ এলাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা ব্যাংকগুলোর দায়ের করা মামলায় জেল হাজতে কাটালেও ব্যাংকগুলোর হারানো পুঁজি উদ্ধারে কোনো কৌশল নেওয়া হচ্ছেনা। পাট ব্যবসায়ীদের সিসি ঋণ দেওয়া ব্যাংকগুলোর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ব্যাংকগুলোর দুর্ণীতিপরায়ন কর্মকর্তা ও অসৎ পাট ব্যবসায়ীদের কারণে ব্যাংকগুলো আজ পুঁজি হারিয়েছে তাদের ব্যাংকের সিসি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলেও তাদের বাড়ি গাড়ি সান সৈকতে একটুকু নাড়া লাগেনি এমনটাই জানিয়েছেন বিজ্ঞমহল।
দিঘলিয়া জুট প্রেস এ্যান্ড বেলিং অঞ্চলের সোহরাব হোসেন নামক জনৈক শ্রমিক নেতা এ প্রতিবেদককে জানান, পাটশিল্প ধ্বংসের পিছনে যারা জড়িত ছিল তাদের অনেকে এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শ্রমিক পরিবার। স্টার জুট মিলস শ্রমিক কর্মচারি ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি গাজী এনামুল হাচান মাসুম এ প্রতিবেদককে জানান, মিলগুলো বন্ধ করে হাজার হাজার শ্রমিকদের কর্মহীন করে দেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল কর্মরত শ্রমিকদের বিপক্ষে যুদ্ধের শামিল। আজ মিল গুলোর শ্রমিকদের কর্মহীন করে দুর্ণীতিপরায়ন কর্মকর্তাদের চাকুরীতে বহাল রেখে বেতন দিয়ে আসছে বিগত ফ্যাসিষ্ট সরকার। বর্তমানেও তা বহাল আছে। বিজ্ঞমহলের দাবী খুলনার এই ধ্বংস হয়ে যাওয়া পাট শিল্প ও কাঁচা পাট কেনাবেচা ও রপ্তানিকে উজ্জীবিত করে কর্মহীন শ্রমিক পরিবারকে কর্মের দিকে ফেরাতে শিল্প জোন গড়ে তোলা দরকার এ জনপদে।