ভাণ্ডারিয়ায় নিজ শ্বশুর বাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

এফএনএস (মোঃ রেজাউল ইসলাম শামীম; পিরোজপুর) : | প্রকাশ: ১৬ জুন, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ভাণ্ডারিয়ায় নিজ শ্বশুর বাড়ি থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় নিজ শ্বশুর বাড়ি থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ওই যুবকের পরিবারের দাবী তাকে হত্যা করা হয়েছে। দুই সন্তানের জনক নিহত শাহাদাত হোসেন বাপ্পি নামের যুবক ভান্ডারিয়া উপজেলার ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর শিয়ালকাঠী গ্রামের শহিদ হাওলাদারের ছেলে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাপ্পির স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম গার্মেন্টসে কাজ করতে জর্ডান যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু স্বামী বাপ্পি ও তার পরিবার এতে রাজি ছিলেন না। এ নিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে মীম কিছুদিন আগে তার বাবার বাড়িতে চলে আসেন। মীমের বিরুদ্ধে বাপ্পির পরিবারের অভিযোগ, বিদেশ যাওয়ার কাগজপত্র তৈরির অজুহাতে মীম প্রায়ই ঢাকায় যাতায়াত করতো এবং বিভিন্ন হোটেলে রাত্রি যাপন করতেন। গত ১১ জুন মীম বাপ্পিকে না জানিয়ে পুনরায় ঢাকায় গিয়ে একটি হোটেলে অবস্থান নেন। ওই সময় বাপ্পি মোবাইল ফোনে স্ত্রীর সাথে রাগারাগি করেন। একপর্যায়ে বাপ্পি ভিডিও কল দিলে মীম যে হোটেল রুমে ছিল, সেখানে এক পরপুরুষকে দেখতে পায় বাপ্পি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ১৪ জুন মীম ঢাকা থেকে কানুয়ায় তার বাবার বাড়িতে ফিরে আসে এবং মোবাইল ফোনে বাপ্পিকে সেখানে ডেকে নেয়।

নিহতের স্ত্রী হাফিজা আক্তার মীম জানান, গতকাল ১৫ জুন (সোমবার) দিবাগত রাতে খাবার শেষ করে তাদের মধ্যে বরাবরের মতোই কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রাত ১টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে মীমের ঘুম ভাঙলে তিনি বাপ্পিকে খাটে না দেখে খুঁজতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় বাপ্পিকে ঝুলতে দেখেন। পরে মীম একাই ওড়না কেটে বাপ্পির দেহ নিচে নামিয়ে খাটে রাখে এবং বাপ্পির পরিবারকে খবর দেন।

খবর পেয়ে বাপ্পির মা রুবী বেগম মীমদের বাড়িতে এসে আহাজারি শুরু করলে একপর্যায়ে মীমের চাচাতো ভাই বেল্লাল হাওলাদার তাকে বাঁশ দিয়ে পেটায় বলেও অভিযোগ করা হয়। 

এ সময় বাপ্পির মা রুবী বেগম এ ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আমার ছেলেকে হত্যা করে গলায় ফাঁসের নাটক সাজানো হচ্ছে। পুত্রবধূ মীম উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করত এবং একাধিক পুরুষের সাথে তার সম্পর্ক রয়েছে। ঘটনার দুই দিন আগেও সে ঢাকায় অন্য পুরুষের সাথে হোটেলে ছিল, যা আমার ছেলে ভিডিও কলে দেখে ফেলে। এই ক্ষোভ থেকেই তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে।

ভাণ্ডারিয়া থানার ওসি (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল জানান, মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা ময়না তদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে