নীলফামারীর সৈয়দপুরে যানজট নিরসনে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও ফুলপাত দখলমুক্ত করতে মাঠে নামে পৌর পরিষদ। ধারাবাহিকভাবে চালানো হয় উচ্ছেদ অভিযান। ওই অভিযান সফলতা লাভ করে। এটিকে সাধুবাদ জানান সৈয়দপুরবাসী। অভিযানের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ১৮ জুন আবার পরিচালনা করা হয় অভিযান। এতে নেতৃত্ব দেন পৌর প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। কিন্তু ওই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পৌর কর্মচারি ও ব্যবসায়িদের সাথে দ্বন্দ্বের সৃষ্ঠি হয়। ওই দ্বন্দ্বের জের ধরে উভয় পক্ষ মিছিল,মিটিং,সড়ক অবরোধ করে থাকে। এতে পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে চলে যায়। অবশেষে পৌর প্রশাসক সমস্যা সমাধানে আন্তরিকতার আশ্বাস দিলে ব্যবসায়িরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। সৈয়দপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসকের কার্যালয়ে ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। ওই বৈঠকে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের সুষ্ঠু সমাধান হয়। তবে বৈঠকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এতে অংশ নেন পৌরসভার সকল বিভাগের কর্মকর্তা, বিএনপি,জামায়াত নেতৃবৃন্দ ছাড়াও সৈয়দপুর থানা পুলিশ, সৈয়দপুর ব্যবসায়ী সমিতি,সৈয়দপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতি,সৈয়দপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী মালিক সমিতিসহ সুধিজন। বৈঠকে শহরের যানজট নিরসন এবং পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত অভিযান চলাকালে পৌরসভার কর্মচারি ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের কারণ এবং তা সমাধানের বিষয়ে উভয়পক্ষ তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। এ সময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ তাদের কথা শুনেন এবং সমস্যা সমাধানে সকলে ঐক্যমত হলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শহরের যানজট নিরসন এবং পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে নেওয়া ফুটপাট দখলমুক্ত অভিযানে পৌরসভাকে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সকলে সহযোগিতা করবে। শহরের সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দকৃত জায়গা মাপজোকের মাধ্যমে নির্দিষ্ট জায়গা চিহৃিত করা হবে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের চিহৃিত নির্দিষ্ট জায়গার ভিতরে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে পৌরসভার যে ৪ জন কর্মচারির বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাদেরকে শহরের কার্যক্রম থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
এখন থেকে পৌরসভার সাথে যেকোন বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান করা হবে। শহরের যানজট নিরসনে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে সকলকে সচেতন করতে সবধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ,ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সুধিজনদের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে পৌরসভার কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্বের অবসান হওয়ায় উপস্থিত সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেন। এসব সিদ্ধান্ত আগামি কর্মদিবস থেকে বাস্তবায়ন করা হবে।