পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আজ শুক্রবার নীলফামারীর ডালিয়া তিস্তা ব্যারাজ এলাকা এবং নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বললেন, “তিস্তা নদীর দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান ও উত্তরাঞ্চলের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রকল্পটি নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। পদ্মা সেতুর মতোই এই প্রকল্পও দৃশ্যমান হবে এবং এর কাজ শুরু হবে।”
দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের মতামত ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পটি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু উত্তরাঞ্চলের জন্য নয়, সমগ্র দেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। নির্বাচনের আগে তিস্তা আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ অঞ্চলের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের নিয়ে সরেজমিন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আসাদুল হাবিব দুলুসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। খুব দ্রুত বিশেষজ্ঞ দলের কারিগরি মূল্যায়ন শেষ করে প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হবে’-উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, শুষ্ক মৌসুমে তিস্তা নদীতে পানির স্বল্পতার কারণে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েন। অন্যদিকে বর্ষা মৌসুমে ভারতের গজলডোবা ব্যারাজ থেকে অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেয়ায় তীব্র স্রোতের সৃষ্টি হয়, যা নদীভাঙনকে ত্বরান্বিত করে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হবে, নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে এবং কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।