খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় এ বছর কাঁঠালের ভালো ফলন হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কাঁঠাল গাছে প্রচুর ফল ধরায় চাষি, ব্যবসায়ী ও শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। মৌসুমের শুরু থেকেই স্থানীয় বাজারে কাঁঠালের ব্যাপক চাহিদা দেখা দিয়েছে। ফলে কাঁঠাল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা অধিক লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করছেন। কাঁঠাল গাছ ক্রয়কারী ব্যবসায়ী মোঃ রাসেল এ প্রতিবেদককে বলেন, কাঁঠালের ব্যবসায় তুলনামূলকভাবে অল্প পুঁজিতে ভালো লাভ করা সম্ভব। তিনি বলেন, “এবার কাঁঠালের ফলন খুব ভালো হয়েছে। সঠিকভাবে গাছ কিনতে পারলে কম বিনিয়োগে অধিক আয় করা যায়।”
তিনি আরও জানান, তার অধীনে দুইজন শ্রমিক কাজ করেন। তাদের একজন সাহেদ এবং অন্যজন হামিদ। তারা প্রতিদিন কাঁঠাল সংগ্রহ, পরিবহন ও অন্যান্য কাজে নিয়োজিত থাকেন এবং দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে পারিশ্রমিক গ্রহণ করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। এতে খুচরা বাজারে সাধারণ ক্রেতারা বেশি দামে কাঁঠালসহ অন্যান্য ফল কিনতে বাধ্য হন। তারা বাজারে মনিটরিং বৃদ্ধি এবং অসাধু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে সাধারণ মানুষ ন্যায্যমূল্যে ফল কিনতে পারেন।
স্থানীয়দের মতে, এ বছরের অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো বৃষ্টিপাতের কারণে কাঁঠালের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে কাঁঠাল চাষ ও ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং উপজেলার অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। দিঘলিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার নুসরাত জাহান ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কপিল দেব বসাক এ প্রতিবেদককে জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকায় আমের পাশাপাশি দিঘলিয়ায় কাঁঠালের উৎপাদনও ভালো হয়েছে। আমের মৌসুমে বাজারে আমের চাপ থাকায় কাঁঠালের মূল্য কম। তবে নামী কাঁঠালগুলোতে দাম ভালো পাবে কাঁঠাল উৎপাদনকারী কৃষকেরা।