শিশু হত্যা ও নির্যাতন

জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষায় পদক্ষেপ নিন

এফএনএস | প্রকাশ: ২২ জুন, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
জাতির ভবিষ্যৎ রক্ষায় পদক্ষেপ নিন

সামপ্রতিক সময়ে দেশজুড়ে শিশু হত্যা ও নির্যাতনের ভয়াবহতা আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের সামনে এক বিশাল প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দিয়েছে। স্কুলে সিনিয়র-জুনিয়র সংস্কৃতির নামে গ্যাং কালচার, পারিবারিক অবক্ষয়, লোভ ও হিংসা—সব মিলিয়ে শিশুদের ওপর নৃশংসতা বেড়েই চলেছে। একটি মোবাইল ফোন চুরির অপবাদে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যা কিংবা অরক্ষিত শিশুদের অপহরণ ও নির্যাতনের মতো ঘটনা প্রমাণ করছে আমরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছি। সামাজিক অবক্ষয়, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং অপরাধীদের রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় এ ধরনের অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। শিশুরা সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশ, আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বিকৃত মানসিকতার মানুষ তাদের ওপর হিংস্রতা চালাচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। শিশু হত্যার মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে, যাতে অপরাধীরা স্পষ্ট বার্তা পায় যে শিশুদের গায়ে হাত দিলে পার পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে কেবল আইনি কঠোরতা যথেষ্ট নয়। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। শিশু হত্যা ও নির্যাতন শুধু ফৌজদারি অপরাধ নয়, এর সঙ্গে রাষ্ট্রের ভবিষ্যতের প্রশ্ন জড়িত। তাই বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশব্যাপী শিশুদের যত্ন, নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিশুদের জন্য একটি সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা। পরিবারে দায়িত্বশীলতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহমর্মিতা এবং সমাজে নৈতিকতার চর্চা ছাড়া এই ব্যাধি দূর করা সম্ভব নয়। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে কেবল অপরাধ প্রতিরোধ নয়, বরং তাদের মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের পথ সুগম করা। রাষ্ট্র যদি শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক পরিবেশ গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়, তবে সামগ্রিক উন্নয়ন অর্থহীন হয়ে পড়বে। আমাদের প্রত্যাশা, সরকার ও সমাজ একসঙ্গে কাজ করে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলবে। নইলে জাতির আস্থা ও ভবিষ্যৎ চিরতরে ভেঙে পড়বে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে