উজানের ভারী বর্ষণের প্রভাবে নীলফামারীর তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার সন্নিকটে পৌঁছেছে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদীভাঙন ও সম্ভাব্য বন্যার আশঙ্কায় চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের হাজারো মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল এবং নিম্নভূমিতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষিজমি,সবজিক্ষেত ও আমন ধানের বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
তিস্তা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি আরও বাড়লে বসতভিটা, ফসলি জমি ও গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সতর্ক করা হবে।
এদিকে সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা, ত্রাণসামগ্রী মজুত এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া ও পানি পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তিস্তার পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে নীলফামারীর তিস্তা অববাহিকাজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আর এক কর্মকর্তা জানান,সকালে এ পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেলেও বিকেলে পানি নেমে আসার সম্ভবনা রয়েছে।