নীলফামারীর সৈয়দপুরে সমবায় অফিসের নিবন্ধন নিয়ে গড়ে ওঠা কিছু সমিতির বিরুদ্ধে উচ্চ সুদে ঋণ প্রদান ও সুদের ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,সমবায়ের মূল উদ্দেশ্য সদস্যদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হলেও কতিপয় ব্যক্তি নিবন্ধনের আড়ালে এটিকে লাভজনক সুদের ব্যবসায় পরিণত করেছেন। ফলে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রকৃত সমবায় কার্যক্রমও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত নামে পরিচালিত একাধিক সমিতি সদস্য সংগ্রহের মাধ্যমে আমানত গ্রহণ এবং চড়া হারে ঋণ বিতরণ করছে। অনেক ক্ষেত্রে ডেইলি,সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তির নামে এমন হারে অর্থ আদায় করা হচ্ছে,যা প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার তুলনায় অনেক বেশি বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,শুরুতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হলেও পরে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করতে না পারলে সদস্যদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং সামাজিকভাবে হেয় করার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,সমবায় প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য হচ্ছে সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে সঞ্চয় ও উৎপাদনমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা। কিন্তু কিছু প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সেই নীতিমালা থেকে বিচ্যুত হয়ে সুদনির্ভর ব্যবসায় রূপ নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সমবায় ব্যবস্থার প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিবন্ধিত সমবায় সমিতিগুলোর আর্থিক কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি এবং নিরীক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম বা গ্রাহক হয়রানির ঘটনা ঘটতে পারে।
বাংলাদেশে সমবায় সমিতি পরিচালনা ও নিবন্ধন সংক্রান্ত বিধান রয়েছে এবং সমবায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত আইন ও নীতিমালা অনুসরণ বাধ্যতামূলক। সমবায় অধিদপ্তর নিবন্ধন, তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব পালন করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, কোনো সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে অনিয়ম বা আইনবহির্ভূত আর্থিক কার্যক্রমের অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সৈয়দপুরের সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত সমবায় কার্যক্রমের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। সৈয়দপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মোঃ মাহফুজার রহমান বলেন, সৈয়দপুর প্রায় শতাধিক সমিতির রেজিঃ নম্বর দেয়া হয়েছে। ওই নিবন্ধন নিয়ে সমিতির আড়ালে তারা কি করছে তা তদারকি করা হচ্ছে। কেউ যদি সমবায় সমিতির নামে সুদের কারবারে জড়িয়ে যায়,তা হবে সমবায়ের আইন অনুযায়ি অপরাধ। নীলফামারীর উপপরিচালক ( ভারপ্রাপ্ত) মোঃ মাসুদ রানা বলেন,অধিদপ্তরের নম্বর ছাড়া কোন সমিতি ঋণ দান কার্যক্রম চালাতে পারবে না। কেউ যদি এ ধরনের কাজে জড়িয়ে পড়ে তা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।