বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বালিয়াদিঘী ইউনিয়নের সোনামুয়া গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ইছামতী নদী থেকে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রকাশ্যে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নদীভাঙন, কৃষিজমি ক্ষতি এবং পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে সোহেল, আইয়ুব ডাক্তার, হাফিজার, মজিদ, পিন্টু প্রাং, সাজু, সাহান, রহিম বাদশা ও আলমগীর নামের কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্তরা ক্ষমতাসীন দলের পরিচয় ব্যবহার করে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করেন। তাদের দাবি, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন, সেই দলের পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসায় তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রামবাসীরা জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদীর তলদেশ থেকে নির্বিচারে বালু উত্তোলনের ফলে বর্ষা মৌসুমে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতভিটা এবং স্থানীয় সড়কও হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের নীরবতায় অবৈধ বালু উত্তোলন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। এতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের দাবি, ইছামতী নদী রক্ষায় দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, অবৈধ ড্রেজার জব্দ এবং বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা জরুরি। এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।