তানোরে আষাঢেও বৃষ্টির দেখা নেই, চিন্তিত কৃষকরা

এফএনএস (সাইদ হোসেন সাজু; তানোর, রাজশাহী) :
| আপডেট: ২৭ জুন, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম | প্রকাশ: ২৭ জুন, ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
তানোরে আষাঢেও বৃষ্টির দেখা নেই, চিন্তিত কৃষকরা

রাজশাহীর তানোরে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে রোপা আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। প্রখর রোদ ও অনাবৃষ্টিতে বীজতলা নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং কৃষকেরা সময়মতো জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। বৃষ্টির পানির অভাবে জমি ও রোপা আমনের বীজতলা শুকিয়ে গেছে। অনেক জায়গায় জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও সেচ পাম্প বা গভীর নলকূপের মাধ্যমে বাড়তি খরচে রোপা আমনের বীজতলা বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন কৃষকরা। 

শনিবার বিকালে সরেজমিন তানোর উপজেলার কলমা, বাধাইড়, পাঁচন্দর, কামারগাঁ,  তালন্দ, সরনজাই ও চান্দুড়িয়া ইউপিসহ মুন্ডমালা ও তানোর পৌর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আলু তোলার পর রোপনকৃত টিআমন ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব এলাকার কৃষকরা তাদের রোপা আমন চাষের জন্য বীজতলা তৈরি করছেন। যা বোপনের উপযোগী হয়ে গেছে। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে বীজতলা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি শুকিয়ে গেছে জমি জমি। 

অন্যবছর গুলোতে দেখা গেছে কৃষকরা আলু তোলার পর জমিতে রোপনকৃত টিআমন ধান কাটার সাথে সাথে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করে রোপা আমন রোপন শুরু করেন। কিন্তু এবছর এমন দৃশ্যের দেখা মিলেনি বৃষ্টির পানির অভাবে। তানোর উপজেলার প্রায় প্রতিটি মাঠের জমি শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি বীজতলায় পানি নেই শুকিয়ে মরতে বসেছে। অনেকেই বিভিন্ন ভাবে সেচ দিয়ে বীজতলা বাচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। আবার অনেক কৃষক বৃষ্টির পানির অভাবে বীজতলা তৈরি করতে পারছেন না। 

কৃষকরা বলছেন, আজ শনিবার আষাঢের ১৩ দিন পার হয়ে গেলেও বৃষ্টির দেখা নেই, তৈরি হওয়া বীজতলার জমি শুকিয়ে গেছে। কৃষকরা আরো বলছেন, রোপা আমন রোপনের সময় যদিও এখনো বাকি রয়েছে তারপরও চিন্তা হচ্ছে সময়মত যদি বৃষ্টি না হয় তবে পানি কিনে রোপা আমন চাষ করতে হবে। সাধারনত বর্ষার মৌসুমে বৃষ্টির পানিতেই রোপা আমন চাষ করে থাকেন কৃষকরা। বৃষ্টি যদি  সময়মত না হয় কৃষকদের খরচ আরো বেড়ে যাবে। 

কৃষি বিভাগ বলছে, আমনের চারা রোপণের উপযুক্ত সময় আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ থেকে শ্রাবণের শেষ পর্যন্ত। এবার মৌসুমের শুরু থেকেই স্বাভাবিক বৃষ্টির দেখা পাচ্ছেন না কৃষক। পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে খেতে সেচ দিতে কৃষকের বাড়তি খরচ হবে। আবার খেতে আগাছা, রোগ ও পোকার আক্রমণ বেড়ে যাবে। এতে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে