চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলায় কথিত এক নারী পীরের আস্তানায় গান-বাজনা করা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রতিবাদ করায় স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম ও মুসল্লিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলাকারীরা মুসল্লিদের চোখ-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে ইমামসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ইমাম মাওলানা ইমরান হোসেনকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে উপজেলার ছোটলক্ষীপুর গ্রামের বরকন্দাজ বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা কথিত ওই পীরের আস্তানা ভাঙচুর করে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ছোটলক্ষীপুর গ্রামের বরকন্দাজ বাড়িতে হাসিনা আক্তার ওরফে সেলিনা বেগম নামের এক নারী দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পীর দাবি করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে আস্তানার আড়ালে ভণ্ডামি ও কবিরাজি চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ ছিল স্থানীয়দের। গত ১০ই মহররম (আশুরা) উপলক্ষে ওই আস্তানায় নারী-পুরুষ মিলে গান-বাজনার আয়োজন করা হয়। পবিত্র এই দিনে এমন আয়োজনে আপত্তি জানিয়ে স্থানীয় আলেম ও মুসল্লিরা তা বন্ধের অনুরোধ করতে যান। মুসল্লিদের অভিযোগ, গান-বাজনা বন্ধ করতে বলায় কথিত পীর সেলিনা বেগম ও তার মুরিদরা উল্টো মুসল্লিদের ওপর চড়াও হয়। একপর্যায়ে আকস্মিকভাবে তারা মুসল্লিদের চোখ-মুখে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয় এবং দা-ছুরি সহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা ইমরান হোসেনের বাম হাতের কব্জি কেটে যায়। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জন মুসল্লি আহত হন। ইমামের ওপর হামলার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জড়ো হয়ে ওই আস্তানার গেট, ছামিয়ানা ও বসতঘর ভাঙচুর করে। ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় মসজিদের খতিব হযরত মাওলানা ইব্রাহিম বলেন, কোনো প্রকৃত মুসলমান উরুস বা মাজার পূজায় বিশ্বাস করতে পারে না। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত এবং রাসুল ও সাহাবী প্রেমিক ইসলামিক কার্যক্রমের বাইরে অন্য কোনো কিছু করা মোটেও উচিত নয়। খবর পেয়ে হাইমচর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী জানান, তৌহিদী জনতা ভণ্ডামি বন্ধের জন্য সেখানে সমবেত হয়েছিল। পরে সংঘাতময় পরিস্থিতির কথা শুনে আমি তাৎক্ষণিক পুলিশসহ ঘটনাস্থলে এসে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখা হয়। আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে, উরুস নামক কোনো ভণ্ডামি এখানে আর চলবে না। ওই আস্তানাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত হাসিনা আক্তার ওরফে সেলিনা বেগম। তার দাবি, আমরা কোনো অন্যায় করি নাই। আশুরার অনুষ্ঠান ও মিলাদ পড়ছিলাম। আমাদের তবারক খেয়ে কত মানুষ ভালো হয়। কিন্তু তারা এসে আমাদের ঘরদুয়ার ভেঙে দিয়েছে। এ বিষয়ে হাইমচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হাসান বলেন, গান-বাজনা বন্ধ করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে।