কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছয়ঘড়িয়া এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পৃথক দুটি যাত্রীবাহী বাসে অভিযান চালিয়ে মোট ৭ কেজি গাঁজাসহ দুই নারীকে আটক করেছে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানা পুলিশ। আটক দুই নারীর শরীরের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে (বডি ফিটিং) মাদক বহন করা হচ্ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (২৮ জুন ) সকাল ৯টা ও সাড়ে ৯টার দিকে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির শিকদার-এর নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. আব্দুল বারেক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা থানাধীন ছয়ঘড়িয়া এলাকায় ঢাকা অভিমুখী সড়কে বিশেষ চেকপোস্ট পরিচালনা করেন। অভিযানকালে পাপিয়া ট্রান্সপোর্ট নামের দুটি পৃথক যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় প্রথম বাস থেকে আঞ্জু বেগম (৪৫) নামে এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানার কৈখালী গ্রামের বাসিন্দা হলেও বর্তমানে গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন ব্যাংকের মাঠ বস্তি এলাকায় বসবাস করেন। তল্লাশির সময় তার শরীরের সঙ্গে স্কচ টেপ দিয়ে বিশেষভাবে পেঁচিয়ে রাখা ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় আরেকটি পাপিয়া ট্রান্সপোর্ট বাসে তল্লাশি চালিয়ে মৌসুমী (৩৪) নামে অপর এক নারীকে আটক করা হয়। তিনি ঢাকার দারুস সালাম থানাধীন কোর্টবাড়ী বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা। তার শরীরের সঙ্গেও স্কচ টেপ দিয়ে পেঁচিয়ে রাখা অবস্থায় ৩ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটক দুই নারী দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে শরীরের সঙ্গে মাদক বেঁধে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তাদের সঙ্গে আর কেউ জড়িত রয়েছে কিনা, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে। ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. জাকির শিকদার জানান, মাদকের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পৃথক দুই বাস থেকে মোট ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার এবং দুই নারীকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক পরিবহন, পাচার ও কারবারের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং মহাসড়ককে মাদকমুক্ত রাখতে পুলিশের এমন তৎপরতা চলমান থাকবে বলে তিনি জানান।