দেশে হামের সংক্রমণ ও মৃত্যুর মিছিল থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে শনাক্ত হয়েছে আরও ৯৪১ জন। সব মিলিয়ে একদিনেই আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন। রোববার (২৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত মারা যাওয়া চার শিশুর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুইজন, সিলেট বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন রয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হয়নি।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৬১৯ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে।
একই সময়ে দেশে মোট ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে ল্যাব পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। অন্যদিকে সন্দেহজনক বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ জনে। অর্থাৎ গত সাড়ে তিন মাসে হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৯১৭ শিশু।
হাসপাতালে ভর্তির চিত্রও উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪১ জন হাসপাতালে এলেও ভর্তি করতে হয়েছে ৮৮৯ জনকে। চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৮৬৫ জন। নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৮৭ জন ঢাকা বিভাগের। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৯১ জন, বরিশালে ১০৬ জন, ময়মনসিংহে ৬০ জন, সিলেটে ৫৭ জন, খুলনায় ৪৬ জন, রাজশাহীতে ৩০ জন এবং রংপুরে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১৫২ জন।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, নিশ্চিতভাবে হামে সবচেয়ে বেশি ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। এরপর বরিশালে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ১০ জন, সিলেটে তিনজন এবং রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন করে মারা গেছেন।
অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে, যেখানে প্রাণ গেছে ২৬৬ জনের। এছাড়া রাজশাহীতে ৮৮ জন, সিলেটে ৭৮ জন, ময়মনসিংহে ৬১ জন, চট্টগ্রামে ৫১ জন, বরিশালে ৩৯ জন, খুলনায় ২৮ জন এবং রংপুরে আটজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সংক্রমণের বিস্তার রোধে শিশুদের দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনা, উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে।