ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ এএম
ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল, এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না

চট্টগ্রাম ৪ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এর ফলে তার নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না এবং সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগও থাকছে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন। এর আগে সোমবার (১৫ জুন) শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন আদালত।

আদালতে আসলাম চৌধুরীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও আইনজীবী রোকন উদ্দিন মো. ফারুক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। ব্যাংক এশিয়া পিএলসির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামাল উল আলম। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

এই মামলার সূত্রপাত ঋণখেলাপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন। পরে জামায়াতের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন সেই আপিল খারিজ করলে তার প্রার্থিতা বহাল থাকে। পরে ওই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হলে সেটিও খারিজ হয়।

এরপর হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন আনোয়ার সিদ্দিকী। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগ আবেদনটি গ্রহণ করে নির্দেশ দেন, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে জয়ী হলেও আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট আসনের ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না। পরে মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশে ফলাফল স্থগিত রাখা হয়।

পরবর্তীতে গত ৯ জুন আপিলের শুনানি শুরু হয়। মঙ্গলবার (২০ জুন) আপিল বিভাগ অ্যামিকাস কিউরি হিসেবে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কামরুল হক সিদ্দিকী ও প্রবীর নিয়োগীকে মতামত দেওয়ার জন্য নিয়োগ দেন। শুনানি শেষে মঙ্গলবার (৩০ জুন) চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের রায়ের পর চট্টগ্রাম ৪ আসনে নতুন করে নির্বাচন হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর।

জামায়াতের প্রার্থীর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, “ঋণখেলাপি হলে কেউ সংসদ সদস্য হতে পারবেন না, আদালতের এ রায়ে সেটি স্পষ্ট হয়েছে। এটি ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।”

তবে চট্টগ্রাম ৪ আসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে, নাকি নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরই চূড়ান্ত আইনি অবস্থান স্পষ্ট হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে