ভিআইপি নিরাপত্তার আড়ালে পুলিশ সদস্যদের মানবিক বাস্তবতা

এফএনএস | প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
ভিআইপি নিরাপত্তার আড়ালে পুলিশ সদস্যদের মানবিক বাস্তবতা

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, বিচারপতি, কূটনীতিক কিংবা অন্যান্য ভিআইপিদের নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। তবে এই নিরাপত্তা বলয়ের আড়ালে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ, সুযোগ-সুবিধা ও মানসিক অবস্থাও সমান গুরুত্বের দাবি রাখে। রাজধানীতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ পুলিশ সদস্য ভিআইপি নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন, যদিও প্রয়োজনীয় জনবলের তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক সদস্যকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক চাপ বাড়াচ্ছে। দীর্ঘ সময় একই স্থানে দায়িত্ব পালন, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং একঘেয়ে কর্মপরিবেশ কর্মদক্ষতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যনুযায়, অনেক সদস্যের সময় কাটে মোবাইল ফোনে, যা একদিকে দায়িত্বের ফাঁকে একঘেয়েমির প্রতিফলন, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় অবস্থানে থাকার বাস্তব চিত্রও তুলে ধরে। একই সঙ্গে খাবার সরবরাহে বিলম্ব, নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণের স্থান না থাকা, টয়লেট ব্যবহারে বিড়ম্বনা এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের সংকট-এসব বিষয় শুধু ব্যক্তিগত অসুবিধাই নয়, বরং একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। আরেকটি মানবিক দিক হলো, দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভিআইপিদের সম্পর্ক। একজন পুলিশ সদস্যের প্রধান দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পাওয়াই তার লক্ষ্য নয়। তবে কর্মক্ষেত্রে ন্যূনতম মানবিক আচরণ, খোঁজখবর নেওয়া কিংবা সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা কর্মীদের মনোবল বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাস্তবতাও বিবেচনায় রাখতে হবে। বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ঝুঁকি এবং রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসারে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তাই ভিআইপি নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পরিবর্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও মানবিক করার দিকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি-দুই লক্ষ্যই পরস্পরবিরোধী নয়। প্রয়োজন অনুযায়ী জনবল বৃদ্ধি, যানবাহনের সংকট দূর করা, খাবার ও বিশ্রামের মানোন্নয়ন, স্বাস্থ্যসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দায়িত্ব পালনের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি। কারণ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা যাদের কাঁধে ন্যস্ত, তাদের কর্মপরিবেশও যদি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক না হয়, তবে সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।