এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি উদ্বেগের বার্তা

এফএনএস | প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম
এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি উদ্বেগের বার্তা

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) একটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অগ্রগতি অনেকাংশেই এডিপি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভরশীল। সেই বিবেচনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ১৬ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সংশোধিত এডিপির মাত্র ৪৮ দশমিক ২৩ শতাংশ ব্যয় হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এমনকি করোনা মহামারির সময়ও উন্নয়ন ব্যয়ের হার এর চেয়ে বেশি ছিল। অর্থাৎ বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সাময়িক নয়, বরং প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতারও ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হলো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সড়ক পরিবহন, রেলপথ ও পরিবেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে বাস্তবায়নের হার অত্যন্ত কম। এসব খাত সরাসরি জনসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত। নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিলম্বিত হবে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপরই পড়বে। অন্যদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জ্বালানি এবং কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের তুলনামূলক ভালো বাস্তবায়ন দেখায় যে, কার্যকর পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সময়মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। ফলে সব খাতে একই ধরনের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক দক্ষতা ও সমন্বয় বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ক্রয়প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা, বৈদেশিক সহায়তা ছাড়ে বিলম্ব, প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা, দক্ষ জনবলের অভাব এবং প্রশাসনিক জটিলতা এ অবস্থার অন্যতম কারণ। এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান ছাড়া প্রতিবছর অর্থবছরের শেষ দিকে তড়িঘড়ি করে ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা কাঙ্ক্ষিত ফল বয়ে আনবে না। বরং এতে প্রকল্পের গুণগত মান ও ব্যয়ের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হতে পারে। উন্নয়ন ব্যয়ের ধীরগতি শুধু বরাদ্দ অব্যবহৃত থাকার বিষয় নয়; এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ পরিবেশ এবং জনসেবার মানের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই প্রকল্প অনুমোদন থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি, সময়ানুবর্তিতা এবং নিয়মিত পরিবীক্ষণ জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্রয়প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নয়নের প্রকৃত সাফল্য বরাদ্দের আকারে নয়, বরং সময়মতো ও মানসম্মত বাস্তবায়নে নিহিত। সেই লক্ষ্য অর্জনেই এখন প্রয়োজন দক্ষ, স্বচ্ছ ও ফলাফলভিত্তিক উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা।