সরাইলের সংঘর্ষে নাসিরনগরের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

এফএনএস (আক্তার হোসেন ভূইয়া; নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) :
| আপডেট: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম | প্রকাশ: ৩০ জুন, ২০২৬, ০৫:৩৯ পিএম
সরাইলের সংঘর্ষে নাসিরনগরের যাত্রীদের চরম ভোগান্তি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় টানা তৃতীয় দিনের সংঘর্ষে অচল হয়ে পড়েছে সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক সড়ক। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও উত্তেজনার কারণে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ট্রাক, বাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রোববার সন্ধ্যায় কালীকচ্ছ ইউনিয়নের সূর্যকান্দি গ্রামের মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে ধর্মতীর্থ গ্রামের হাদিম মিয়ার পাওনা টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। এর জেরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ধর্মতীর্থ গ্রামের শামছুল মিয়ার ছেলে হাদিম মিয়া (৫৫) নিহত হন।

সোমবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টায় হাদিম মিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়। দাফনের পরপরই ধর্মতীর্থ গ্রামের শত শত লোক কালীকচ্ছ বাজারে সূর্যকান্দি গ্রামের লোকজনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে দুই পক্ষ আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হলে একপর্যায়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

মঙ্গলবার সকালেও দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ওসিসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে কয়েক শতাধিক পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি  সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম এবং সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল কাদের ভূঁইয়াসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কালীকচ্ছে অবস্থিত আঞ্চলিক বিজিবি সদর দপ্তর ও সরাইল বিজিবি ব্যাটালিয়নের আশপাশের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান করায় পরিস্থিতি ছিল থমথমে। কালীকচ্ছ বাজারের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। অনেক দোকানের শাটার খোলা থাকলেও ভেতরে কোনো মালামাল দেখা যায়নি।

সরাইল-আশুগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আশা করছি, খুব দ্রুত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসবে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে