মেয়াদ শেষ হলেও দাপট খাটিয়ে অধ্যক্ষে চেয়ারে আব্দুল বারি

এফএনএস (এইচ এম মইনুল ইসলাম; বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ১ জুলাই, ২০২৬, ০৮:২৮ পিএম
মেয়াদ শেষ হলেও দাপট খাটিয়ে অধ্যক্ষে চেয়ারে আব্দুল বারি

বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে গুলিশাখালী ফাজিল (-্নাতক) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মেয়াদ শেষ হলেও দাপট খাটিয়ে চেয়ারে থাকতে চান মাওলানা আব্দুল বারি। নানাবিধ অনিয়ম, অর্থ আদায়, শিক্ষকদের সাথে অসাদাচারণের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষকবৃন্দরা চাকুরির মেয়াদ শেষ হলেও পুনরায় প্রতিষ্ঠানে চুক্তিভিত্তিক অধ্যক্ষের হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে প্রতিবাদ। বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের গুলিশাখালী ফাজিল (-্নাতক) মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে এ প্রতিবাদ সভা করেছেন মাদ্রাসার প্রভাষক, এবতেদায়ী শাখাসহ বিভিন্ন শাখার শিক্ষকমন্ডলী।  এ সময় সহকারী অধ্যক্ষ মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদ, প্রভাষক হাসিবুর হাসান হৃদয়, নাহিদ হোসেন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, আব্দুল কাইয়ুম, নাজমিন আক্তার, এবতেদায়ী প্রদান মোস্তাফিজুর রহমানসহ একাধিক শিক্ষকরা অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি প্রতিষ্ঠানের সহকারী অধ্যাপক শেখ আব্দুল্লাহ মাসুদকে কোন প্রকার অজুহাত ছাড়াই শোকাজ করে তার নিকট থেকে ১ লাখ টাকা আদায়, দুটি উচ্চতার স্কেল করে দেওয়া বাবদ ১ লাখ টাকা, ২০২৫ এনটিআরসি  নিয়োগপ্রাপ্ত ৫ শিক্ষক যোগদান করায় তাদের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা আদায়, এবতেদায়ী শিক্ষক নাজমিন আক্তারের নিকট থেকে ৯০ হাজার টাকা, একইভাবে ২০২৬ সালে আইসিটি প্রভাষক নাহিদ  হোসেন প্রতিষ্ঠানে যোগদান করায় তার নিকট  থেকে ৩০ হাজার টাকা, এনটিআরসি যোগদানকৃত কৃষি শিক্ষক মমতাজ বেগমের নিকট থেকে  ৮৫ হাজার টাকা, আরবি প্রভাষক মুজিবুর রহমানের নিকট থেকে ৫০ হাজার টাকা, দাখিল কারি শিক্ষক আব্দুল গফফার মৃধা উচ্চতার স্কেল বাবদ ৫০ হাজার টাকা আদায় সহ বিভিন্ন সময়ে কৌশল করে শিক্ষকদের নিকট থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করেন অধ্যক্ষ। এ ছাড়াও ২০০৯ সালে  সকল শিক্ষকের বেতন ভাতা বন্ধ থাকায় পুনরায় বেতন চালু করার অজুহাতে ১১ লাখ টাকা শিক্ষকদের দিতে হয়েছে অধ্যক্ষকে। শিক্ষকরা আরও অভিযোগ করে বলেন, অধ্যক্ষ সার্বক্ষনিক শিক্ষকের সাথে অসাদাচারণ এক নায়ক তান্ত্রিকভাবে তিনি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। শিক্ষক ছাত্রছাত্রীদের ওয়াশরুম পর্যন্ত নেই। চলতি বছরে ২৯ জুন অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারির চাকুরির মেয়াদ শেষ হলেও তিনি পুনরায় চুক্তিভিত্তিক মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ হিসেবে উক্ত পদে বহিরাগত লোকজন নিয়ে থাকার পায়তারা চালাচ্ছেন।  তিনি যাতে পুনরায় উক্ত পদে না থাকতে পারে সে জন্য উর্দ্ধতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।   

গুলিশাখালী ফাজিল (-্নাতক) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল বারি শিক্ষকদের নিকট থেকে টাকা গ্রহনসহ তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, ২৯ জুন তার চাকুরির মেয়াদ শেষ হয়েছে। তবে, বিধি অনুযায়ী ম্যানেজিং কমিটি পুনরায় তাকে চুক্তিভিত্তিক ২ বছরের জন্য অধ্যক্ষ পদে যোগদানের সুপারিশ করে মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন পাঠিয়েছেন। আবেদন গ্রহন হলে তিনি বিনা বেতনে প্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ হিসেবে থাকবেন।  এ সর্ম্পকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাবিবুল্লাহ বলেন, গুলিশাখালী ফাজিল (-্নাতক) মাদ্রাসায় পদাধিকার বলে এডিসি রেভিনিউ সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। তারই নির্দেশনা মোতাবেক বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়টি খোজ খবর নেওয়া হচ্ছে। আইনগতভাবে বিধিবর্হিভুত প্রতিষ্ঠান প্রধানের মেয়াদ শেষে তিনি আর ওই পদটিতে থাকতে পারেন না। সেক্ষেত্রে নিয়মবর্হিভুত উক্ত পদে জোর করে থাকার সুযোগ নেই। বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গুলিশাখালী ফাজিল (-্নাতক) মাদ্রাসার সভাপতি অনুপ দাশ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)  বাগেরহাট বলেন,মাদ্রাসার অধ্যক্ষের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও তিনি উক্ত পদে থাকার কোন ইখতিয়ার রাখেন না। এছাড়াও বেশ কিছুদিন আগে তিনি, একটি রেজুলেশন করে আমার কাছে অনুমোদনের জন্য আসলে আমি তাকে মিটিং না করে অনুমোদন দেয়া যাবে না বলে ফিরিয়ে দেই।পরবর্তীতে আবারও তিনি একই পথে হেটে মাদ্রাসায় বিশৃঙ্খলা সৃস্টি করেন, সে প্রেক্ষিতে সহকারি অধ্যক্ষ মোঃ শহিদুল ইসলাম কে দিয়ে মোরেলগঞ্জ থানায় ১-৭-২০২৬ তারিখে একটি সাধারণ ডায়েরি অন্তর্ভুক্ত করেন, যার জিডি নং -৩৫।এর পরেও তিনি কোন বিশৃংখলা সৃষ্টি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে