মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা কাম্য নয়

এফএনএস | প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৬, ০৩:১১ পিএম
মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় অবহেলা কাম্য নয়

সন্তানের হাতে মা-বাবা খুন হচ্ছেন, মা-বাবার হাতে সন্তান খুন হচ্ছে, ইভ টিজিংয়ের শিকার বা তালাকের পর বা বিষণ্নতার কারণে আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, মাদকাসক্তির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, সিজোফ্রেনিয়া, ডিপ্রেশনসহ অন্যান্য মানসিক রোগের কারণে ব্যক্তি কর্মক্ষমতা সৃজনক্ষমতা হারাচ্ছে এসব ঘটনা মানসিক রোগের কারণেই হচ্ছে এবং ক্ষতিও অপরিমেয়। তাই মানসিক সমস্যাকে অবহেলা করা উচিত নয়। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর আচরণ-আচরণ ও চলাফেরা খেয়াল করলে দেখা যায় আমরা আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে কতটা অজ্ঞতা ও অসচেতনতার মধ্যে রয়েছি। একদিকে কুসংস্কারের কারণে যেমন আমরা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে দূরে রয়েছি। অন্যদিকে এটির তেমন প্রচার ও প্রসার না থাকার কারণেও আমরা অনেক সময় মানসিক স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। যেখানে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন যে ২০৩০ সাল নাগাদ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বিষণ্নতা ব্যাপক আকার ধারণ করবে সেখানে এখনো আমরা মানসিক স্বাস্থ্য সেবাতে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছি। সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, ১৮ বছরের বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে মানসিক সমস্যা রয়েছে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশের। যা আগে ছিল ১৬.০৪ শতাংশ। এর মানে মানুষের মধ্যে মানসিক অশান্তি ও অস্থিরতা ক্রমান্বয়ে বেড়েই চলছে। তবে এর থেকেও বড় ভাবনার বিষয় হচ্ছে দেশের একটি বৃহৎ শিক্ষিত তরুণ সমাজও মানসিক সমস্যায় ভুগছে। একটা দেশের তরুণ সমাজই হচ্ছে জাতির ভবিষ্যৎ। অথচ তারাই যদি মানসিক সমস্যার করাল গ্রাসে আটকে থাকে তাহলে জাতির ভবিষ্যতের জন্য এর থেকে বড় অভিশাপ আর কি হতে পারে। এরা দিনের বেশিরভাগ সময় ইন্টারনেটে কাটায়। ফলে এদের মধ্যে আস্তে আস্তে সামাজিকতা বোধও কমে যাচ্ছে। তাই মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এখনই আমাদের সচেতনতা জরুরী। প্রতিদিন শত ব্যস্ততার মাঝেও যদি আমরা সচেতন ভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করি তাহলে অনেকাংশেই আমরা মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পারি। নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, শারীরিক ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম আমাদেরকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সাহায্য করে। পাশাপাশি আমাদের ইতিবাচক ব্যক্তিত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলতে হবে। জীবনকে সুন্দর ও সহজ ভাবে উপভোগ করতে হবে। জীবনের প্রতি রাগ, ক্ষোভ, সফলতা, ব্যর্থতা সবকিছুর ঊর্ধ্বে আগে জীবনকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। তাছাড়া মানসিকভাবে সুস্থ থাকার অন্যতম একটি নিয়ামক হচ্ছে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সামাজিক সচেতনতা। আমরা ঘরে শারীরিক সমস্যার জন্য ফার্স্ট এইডুসহায়তা গ্রহণ করি। তেমনি সবাইকে প্রাথমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার জন্য সাইকোলজিক্যাল ফার্স্ট এইড সম্বন্ধে জানতে হবে ও তা ব্যবহারে দক্ষ হতে হবে।