বিএনপি নেতার নেতৃত্বে অপহরন, হাত-পা বেঁধে যুবককে নির্যাতন

এফএনএস (কাজল বরণ দাস; পটুয়াখালী) : | প্রকাশ: ২ জুলাই, ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
বিএনপি নেতার নেতৃত্বে অপহরন,  হাত-পা বেঁধে যুবককে নির্যাতন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চরআলগী গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দিন মৃধা (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে প্রভাবশালী দুই বিএনপি নেতার নেতৃত্বে অপহরণ করে চোখ ও হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়ার পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বাউফল উপজেলার  ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকা থেকে অপহৃত নাসির উদ্দিনকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। এক বিএনপি নেতার নাম মো. আলী আজম চৌধুরী। তিনি উপজেলা বিএনপির সদস্য ও দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। আরেকজন হলেন মো. মাসুম বিল্লাহ পলাশ। তিনি বাউফল পৌরসভা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। নাসির উদ্দিন ও তাঁর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,আজ বৃহস্পতিবার সকালে পারিবারিক বিরোধের একটি মামলায় হাজিরা দিতে পটুয়াখালী আদালতে যান। আদালতে হাজিরা দেওয়ার পর দুপুর সোয়া একটার দিকে রিকশায় করে তিনি হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় যান। সেখানে একজন অপরিচিত ব্যক্তি তাঁর (নাসির) পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর ওই ব্যক্তি তাঁর মুঠোফোন ছিনিয়ে নেন। ততক্ষণে বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি দল তাঁকে ঘিরে ফেলে এবং দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান এএনএম জাহাঙ্গীর হোসেন কোথায় আছে তা জানতে চান। তিনি (নাসির) জানেন না বলে জানালে একটি মোটরসাইকেলে করে তাঁকে (নাসির) উঠিয়ে আরও ১০-১২ টি মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে বাউফলে চলে আসেন। পরে তাঁকে ইঞ্জিনিয়ার ফারুক তালুকদার মহিলা কলেজ এলাকার বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহর ব্যক্তিগত কার্যালয়ে নিয়ে হাত-পা বেঁধে পিটুনি দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাঁকে সাড়ে তিনটার উদ্ধার করে।

নাসির উদ্দিন বলেন,‘অপহরনের পর তাঁর বিকাশ নম্বর থেকে তিন হাজার টাকা ও তাঁর সঙ্গে থাকা সাড়ে তিন হাজার টাকা অপহরণকারীরা জোরপূর্বক নিয়ে গেছে।’ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,দাসপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে বিরোধ চলছে বিএনপি নেতা আলী আজমের। আর নাসির উদ্দিন হলেন ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থক। বিএনপি নেতা আলী আজম চৌধুরী বলেন,‘নাসির উদ্দিন একজন মাদক ব্যবসায়ী। অপহরনের কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত না।’

বিএনপি নেতা মাসুম বিল্লাহ বলেন,‘এটা অসত্য, অপহরণের মত কোনো ঘটনার সঙ্গে তিনি জড়িত না।’ বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন,‘৯৯৯ নম্বরে ফোন দেওয়ার পর থেকে পুলিশ অপহৃত ব্যক্তিকে (নাসির) উদ্ধারে তৎপর ছিল। সাড়ে তিনটার দিকে তাঁকে (নাসির) উদ্ধার করা হয়েছে। প্রথম ঘটনা যেহেতু পটুয়াখালী সদর থানার মধ্যে, তাই এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে