চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের সাথে মিল না রেখে ওষুধ সরবরাহের অভিযোগে বন্ধ করে দেওয়া মা মেডিকেল হল নামের ফার্মেসীটি পূনরায় চালু করা হয়েছে। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বন্দরের।
জানা গেছে, ভূক্তভোগীদের অভিযোগের পর বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দরা বির্তকিত ওই ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশ দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় সেই ফার্সেসিটি চালু করা হয়েছে বাটাজোর ইউনিয়নের লক্ষণকাঠি গ্রামের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম জানান, গত ২৯ জুন টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত তার শিশু সন্তানের জন্য চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ইনজেকশন সংগ্রহ করতে তিনি বাটাজোর বাজারের মা মেডিকেল হলে যান।
অভিযোগ করে তিনি বলেন, চিকিৎসক যে ওষুধটি ব্যবস্থাপত্রে লিখেছিলেন ফার্মেসি থেকে তার পরিবর্তে ভিন্ন একটি ইনজেকশন দেওয়া হয়। ওষুধটি নিয়ে চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, এটি তিনি ব্যবস্থাপত্রে লেখেননি। পরে আবার ফার্মেসিতে গেলে স্বত্বাধিকারী রিপন ভুলবশত অন্য ওষুধ দেওয়া হয়েছে বলে স্বীকার করেন।
সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন এটি ওই ফার্মেসির প্রথম কোন ঘটনা নয়। এর আগেও ঢাকা সম্মিলিত সাময়িক হাসপাতালের এক চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের পরিবর্তে অন্য ওষুধ দেওয়ার কারণে তার সন্তানের শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছিল। বাটাজোর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আকতার হোসেন বাবুল বলেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রাথমিকভাবে ফার্মেসিটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজার কমিটির ওই সিদ্ধান্তের পরেও অল্প সময়ের ব্যবধানে ফার্মেসিটি পুনরায় খোলা করা হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মাধে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মা মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকারী মো. রিপন বলেন, চিকিৎসক ইসোমিপ্রাজল গ্রুপের ইসোনিক্স ২০ মিলিগ্রাম লিখেছিলেন। ভুলবশত ৪০ মিলিগ্রাম দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমরা তা সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছি। পূর্বের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি কোনো ভুল ওষুধ দিইনি। চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের সাবান লিখেছিলেন। সেটি আমার কাছে না থাকায় একই ধরনের অন্য একটি সাবান দিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, বাজার কমিটির নেতৃবৃন্দ ফার্মেসিটি বন্ধ রাখতে বলেছেন। আমি তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমার ভুল স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের ভুল হবেনা মর্মে মুচলেকা দিয়েছি।
ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলাম বলেন, বাজার কমিটি ফার্মেসিটি বন্ধ করে দিলেও পরে আবার সেটি চালু হয়ে যায়। এখনো কোনো প্রতিকার পাইনি। আমি চাই না বিষয়টি কোনোভাবে যেন ধামাচাঁপা পরে যায়। তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে আমার দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।