পাকিস্তান টেস্ট দলে আবারও নেতৃত্বের পরিবর্তন এসেছে। টানা ব্যর্থতার পর অধিনায়কত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শান মাসুদকে। তার জায়গায় দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট দলের নেতৃত্বে ফিরেছেন বাবর আজম। চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণার সময় এই সিদ্ধান্ত জানায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
শান মাসুদের নেতৃত্বে পাকিস্তানের টেস্ট অধ্যায় প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। প্রায় তিন বছর আগে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার অধীনে দল ১৬টি টেস্ট খেলেছে। এর মধ্যে ১২টিতেই হেরেছে পাকিস্তান। টেস্ট ইতিহাসে কোনো অধিনায়কই নিজের প্রথম ১৬ ম্যাচের মধ্যে ১২টিতে হারেননি। একই সময়ে টানা সাতটি টেস্টে পরাজয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতাও হয়েছে পাকিস্তানের, যা দেশটির টেস্ট ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
মাসুদের অধিনায়কত্বের শুরুটা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া সফরে ৩,০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ দিয়ে। এরপর ঘরের মাঠে বাংলাদেশের কাছে ২,০ ব্যবধানে সিরিজ হারও ছিল পাকিস্তানের জন্য নতুন এক হতাশা। বাংলাদেশের বিপক্ষে এটিই ছিল তাদের প্রথম টেস্ট সিরিজ পরাজয়। মাসুদের নেতৃত্বে একমাত্র বড় সাফল্য আসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে। তবে সাতটি সিরিজের মধ্যে সেটিই ছিল একমাত্র জয়। বাকি চারটি সিরিজে হেরে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ২০২৩ থেকে ২০২৫ চক্রে পয়েন্ট তালিকার তলানিতে শেষ করে পাকিস্তান।
দলীয় ফল আশানুরূপ না হলেও ব্যাট হাতে নিজেকে ধরে রেখেছিলেন মাসুদ। অধিনায়ক হওয়ার আগে তার ব্যাটিং গড় ছিল ২৮.৫১। দায়িত্ব নেওয়ার পর সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪.০৬। এই সময়ে দুটি সেঞ্চুরি ও সাতটি অর্ধশতক করেছেন তিনি। এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে একটি সেঞ্চুরি এবং মেলবোর্নে এক ম্যাচে দুটি অর্ধশতকও রয়েছে।
নেতৃত্বে ফিরলেও বাবর আজমের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ফর্ম খুব স্বস্তিদায়ক নয়। ২০২৩ সালে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর তিন সংস্করণেই রানখরায় ভুগেছেন তিনি। বিশেষ করে টেস্টে মাসুদের অধীনে তার ব্যাটিং গড় ছিল ২৭-এর কিছু বেশি। তবু নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং বিকল্পের অভাব বিবেচনায় আবারও তার ওপর আস্থা রেখেছে পিসিবি।
অবশ্য প্রথম দফায় অধিনায়ক হিসেবে বাবরের রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল। তার নেতৃত্বে ২০ টেস্টের ১০টিতেই জয় পেয়েছিল পাকিস্তান। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঘরের মাঠে সিরিজ জয়, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মাটিতে হোয়াইটওয়াশের মতো সাফল্যও এসেছে সেই সময়। অধিনায়ক থাকাকালে টেস্টে বাবরের ব্যাটিং গড়ও ছিল ৫০-এর ওপরে। যদিও সেই অধ্যায়ে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের কাছে ৩,০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশের মতো হতাশাও ছিল।
রোববার দল ঘোষণার সময় পাকিস্তানের হাই পারফরম্যান্স পরিচালক ও নির্বাচক আকিব জাভেদ নেতৃত্ব বদলের কারণ ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, “অনেক হাড্ডাহাড্ডি টেস্ট ম্যাচ দেখেছি, কিন্তু কিছু বিষয়ে উন্নতি হচ্ছিল না। ম্যাচ শেষ করার দায়িত্ব অধিনায়কের। পাশাপাশি ওভার রেট, ডিআরএসের সিদ্ধান্ত এবং টসে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।”
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর দিয়েই বাবর আজমের দ্বিতীয় অধ্যায় শুরু হবে। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হবে শুক্রবার (২৫ জুলাই)। এরপর শনিবার (২ আগস্ট) দ্বিতীয় টেস্ট। এই সিরিজের পরই ছয় বছর পর ইংল্যান্ড সফরে যাবে পাকিস্তান, যেখানে মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) শুরু হবে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। এরপর ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ব্যস্ত সূচি অপেক্ষা করছে বাবরদের।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের দলে কয়েকটি পরিবর্তনও এসেছে। ফিটনেস সমস্যার কারণে সৌদ শাকিল নেই। ফিরেছেন মোহাম্মদ আলী ও আমির জামাল। প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন উবাইদ শাহ, আলী উসমান এবং আওয়াইস জাফর।