কক্সবাজারে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ নিহত ৯

এফএনএস (বলরাম দাশ অনুপম; কক্সবাজার) : | প্রকাশ: ৬ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
কক্সবাজারে পৃথক পাহাড় ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ নিহত ৯

টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে পৃথক ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮ রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়েছেন। রবিবার (৫ জুলাই) রাতে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৩টি ও কক্সবাজার শহরে একটি এলাকায় এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভারী বর্ষণের ফলে পৃথক তিনটি পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী-শিশুসহ ৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে রবিবার রাত ১টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ১৫ নম্বর জামতলী ক্যাম্পের ডি/৬ ব্লকে আশ্রিত রোহিঙ্গা মোহাম্মদ কামাল হোসাইনের (৪৪) বসতঘরের ওপর মাটি এসে পড়ে। এ ঘটনায় কামাল হোসাইন ও তার স্ত্রী হুমায়রা বেগম (৩৯) এবং ছেলে মোহাম্মদ আনাসের (৪) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উখিয়া ফায়ারসার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ারসার্ভিস কর্মীরা উদ্ধার তৎপরতা চালায়, ৩ জনকে মৃত ও ২ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’ এছাড়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের কুতুপালং ৭ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ডি/৭ ব্লকে রাত পৌনে ২টার দিকে পাহাড়িঢলে আসা মাটিচাপায় একরাম নামে ৭ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়। নিহত একরাম ওই ক্যাম্পের মোহাম্মদ রশিদের ছেলে। ক্যাম্পের মাঝি এনায়েত উল্লাহ জানান, খবর পেয়ে রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা শিশুটির লাশ উদ্ধার করে।

ক্যাম্প প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ৩টার দিকে উখিয়া উপজেলার বালুখালী ১১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের সি/১১ ব্লকে পাহাড়ধসে নারী ও শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এতে আহত হয়েছেন ১ জন। এ ঘটনায় নিহতরা হলেন- ওই ক্যাম্পের বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে উম্মে হাবিবা (২৭) ও তার বোন তানজিনা আক্তার (১৩), মোহাম্মদ রশিদের ছেলে মোহাম্মদ রিহান (০৫) ও তার ভাই হারুনুর রশিদ (০৩)। উখিয়া উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবস্থানকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।’

অন্যদিকে কক্সবাজার শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ছাত্তার ঘোনা এলাকায় পাহাড়ধসে আলী আকবর নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) ভোর ৪টার দিকে ছাত্তার ঘোনায় পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় পাহাড় ধসে চাপা পড়েন একই পরিবারের ৩ জন। স্থানীয়রা ৩ জনকে উদ্ধার করেন। এ সময় আলী আকবরের অবস্থা আশংকাজনক হলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে কক্সবাজারে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর। আবহাওয়া অধিদফতর কক্সবাজারের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এ বৃষ্টিপাত হচ্ছে, যা আরও ২ দিন ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে