সাতক্ষীরা ও কলারোয়া সীমান্তে পৃথক চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় প্রায় ৬৬ লাখ ৬ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেণুপোনা, মোবাইল পার্টস, ওষুধ এবং একটি বাংলাদেশি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। সোমবার সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়ন (৩৩ বিজিবি) এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভোমরা, হিজলদী ও কাকডাঙ্গা বিওপি এবং বাঁকাল চেকপোস্টের টহল দল নিজ নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে।
বিজিবির অভিযান ও জব্দকৃত মালামাল:
ভোমরা সীমান্ত: ভোমরা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল মেইন পিলার ৩ থেকে আনুমানিক ৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিজিবি চেকপোস্ট এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে ৬০ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় চিংড়ি রেণুপোনা এবং একটি বাংলাদেশি ট্রাক জব্দ করা হয়।
হিজলদী সীমান্ত: হিজলদী বিওপির একটি দল কলারোয়া থানার বড়ালি মোড় এলাকা থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে।
কাকডাঙ্গা সীমান্ত: কাকডাঙ্গা বিওপির টহল দল কলারোয়া থানার কেড়াগাছি এলাকা থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় ওষুধ জব্দ করে। বাঁকাল চেকপোস্ট: বাঁকাল চেকপোস্টের একটি দল সাতক্ষীরা সদর থানার শ্রীরামপুর নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ ৩৪থহাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় মোবাইলের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করে। এসব অভিযানে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। ৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান (ওএসপি, পিএসসি) জানান, আটককৃত মালামালগুলো শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশে পাচার করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, "এ ধরনের অবৈধ চোরাচালানের ফলে দেশীয় শিল্প যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।" রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং স্থানীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিজিবির এই চোরাচালান বিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান। চোরাচালানি মালামাল জব্দের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।