কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ওয়াকফ সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি নিয়ে ফের দুইপক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার হুগুলিয়া গ্রামে রবিবার (৫জুলাই) রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। আহতরা হলেন হুগুলিয়া গ্রামের রমজান (৪৫), নাজমুল (২৮), সোহাগ (৩৫), রাকিব (২৩), কাউসার (৩২), আবদুল্লাহ (১৭), রিপন, অজ্ঞাত নারী (৪৫), রাফি (১২) ও সোহেল (৪৫)। আহতের মধ্যে সোহেল ও কাউসারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানা যায়, হুগুলিয়া গ্রামের হাজী জৈয়নুদ্দিন তার নিজের নামে ওয়াকফ এস্টেট, মসজিদ ও মাদরাসার জন্য ১২ কানি (তিন একর) জমি দান করে গেছেন। দানকৃত দলিলে সমাজের ১২জন মাতব্বর এবং তাদের মধ্যে একজন পরহেজগার আলেমকে মোতাওয়াল্লি করে কমিটি করার কথা উল্লেখ করেন। সেই মতে গ্রামের মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে মোতাওয়াল্লি করা হয়েছিল। ২০১২ সালে তিনি মারা যান। এরপর উনার মেয়ের জামাই শাখাওয়াত পরিচালনা শুরু করেন। কিছুদিন আগে গ্রামবাসীকে না জানিয়ে অন্য উপজেলার লোকজনসহ শাখাওয়াত নিজেকে মোতাওয়াল্লি করে কুমিল্লায় কমিটি জমা দেয়। এ দ্বন্দ্বের কারণে মারকাজ মসজিদটি দীর্ঘদিন তালাবদ্ধ ছিল। গত ২৭ এপ্রিল দুইপক্ষের মারামারির ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার জের ধরে রবিবার রাতে পশ্চিম হুগুলিয়া গ্রামের নাজমুলের দোকানের সামনে উভয়পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। উপস্থিত লোকজন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে তা সংঘর্ষ রূপ নেয়। এতে দুইপক্ষের ৯জন আহত হন।
এঘটনার সম্পর্কে জানতে মুফতি শাখাওয়াত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এবিষয়ে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, আমি এখানে গতকাল যোগদান করেছি। রাতেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।