ভারী বর্ষণ: চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি, দুর্ভোগ চরমে

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ৮ জুলাই, ২০২৬, ০৩:২৮ পিএম
ভারী বর্ষণ: চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি, দুর্ভোগ চরমে
ছবি, সংগৃহীত

টানা ভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম নগরীতে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। বৃষ্টির পানিতে সড়ক, অলিগলি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি উঠেছে। নিচু এলাকার অনেক বাসায় পানি ঢ়ুকে পড়ায় রান্নাবান্না ব্যাহত হয়েছে। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আজ বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি দেখা যায়।

কোথাও কোথাও টয়লেট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও অচল হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিচতলার বাসিন্দারা।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩৭ দশমিক ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে নগরের নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, হালিশহর, পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর, পতেঙ্গা, কুয়াইশ, আকমল আলী সড়ক, মুরাদপুর, হাজি পাড়া, লালদিঘির পাড়, সিঅ্যান্ডবি মোড়, পলিটেকনিক মোড, গোলপাহাড় কাজিরহাটসহ নগরীর বেশিরভাগ এলাকায় পানিতে তলিয়ে গেছে।

নগরীর বাকলিয়া এলাকায় দেখা যায়, অনেক দোকানপাটে পানি ঢ়ুকে পণ্য নষ্ট হয়েছে। বাসিন্দারা আসবাবপত্র উঁচু স্থানে সরিয়ে রাখছেন। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে অনেক পরিবার চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে।

চকবাজারের বাসিন্দা আবদুর রহিম বলেন, বৃষ্টির পানি আর ড্রেনের পানি এক হয়ে গেছে। টয়লেট ব্যবহার করা যাচ্ছে না, পানি নামছেও না। ঘরের ভেতর দুর্গন্ধে থাকা দায় হয়ে গেছে। জলাবদ্ধতার সঙ্গে এখন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়েছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের সহকারী পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী আরও দুই দিন বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে জলাবদ্ধতা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি রয়েছে। তাই প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী আন্তঃনগর পর্যটক এক্সপ্রেস কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে পারেনি। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের ষোলোশহর এলাকায় আটকে পড়ার পর প্রায় ১১ ঘণ্টা অপেক্ষার শেষে রাত ১১টার দিকে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল ঘোষণা করে রেল কর্তৃপক্ষ।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে