সাতকানিয়ায় বন্যাতঙ্ক বাড়ছে। ২০২৩ সালের প্রবল বন্যার আশঙ্কা প্রবল হচ্ছে।টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদী, ডলু নদী, হাঙ্গর খালসহ স্থানীয় খাল-বিল ভয়াল রূপ ধারণ করেছে। পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নদ-নদীর পানি উপচে লোকালয়ে প্রবেশ করায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর, সড়ক ও কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
৮ জুলাই বুধবার বিকালে সরেজমিন পরিদর্শণে জানা যায়, উপজেলার পুরানগড়, বাজালিয়া, ছদাহা, কেঁওচিয়া, ধর্মপুর, কালিয়াইশ, নলুয়া, আমিলাইষ, চরতী, খাগরিয়া, এওচিয়া ঢেমশা, পশ্চিম ঢেমশা, সোনাকানিয়াসহ নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে পানি ঢ়ুকে পড়েছে। সাতকানিয়া সরকারি কলেজে হাঁটু পরিমাণ পানি বিরাজ করছে। সাতকানিয়া কলেজ রোড এবং কেরানিহাট-বান্দরবান রোডের একাধিক পয়েন্টে পানি চলাচল করছে। উপজেলার অনেক বসত বাড়িতে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে রয়েছে। অনেকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
অন্যদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও সংযোগ সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে পানি উঠে যাওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কৃষকের আমন ধানের বীজতলা, সবজিখেত ও মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। টানা বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উপজেলার পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরত পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অবিরাম বৃষ্টিতে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে নৌকা-ই হয়ে উঠেছে অনেক এলাকার একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালেও প্রবল বন্যায় সাতকানিয়া লন্ডভন্ড হয়ে গিয়েছিল। এবারো সেরকম বন্যার আশঙ্কা বিরাজ করছে উপজেলাবাসীর মনে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধস মোকাবিলায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোকে সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে উপজেলার বেশ কয়েকটি নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বন্যা ও পাহাড়ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। এছাড়া যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।