রাজনীতিতে নেতা অনেকেই হন, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিতে পারেন খুব কমজন। পদ-পদবি, ক্ষমতা কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যিনি মানুষের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে ওঠেন, মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান করে নেন, স্থানীয়দের মতে অধ্যাপক আসলাম চৌধুরী তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব। সীতাকুণ্ডের অনেক মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, বরং বিপদে-আপদে নির্ভরতার আরেক নাম, একজন অভিভাবক। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে প্রবীণ নাগরিক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে এমনই নানা অভিজ্ঞতার কথা। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, মামলা-মোকদ্দমা, কারাবাস এবং ব্যক্তিগত সংকটের মধ্য দিয়েও তিনি সীতাকুণ্ডের মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের বন্ধন ছিন্ন করেননি। বরং প্রতিটি কঠিন সময়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, আসলাম চৌধুরীর সবচেয়ে বড় শক্তি তার সহজ-সরল ব্যক্তিত্ব এবং মানুষের কাছে সহজে পৌঁছে যাওয়ার মানসিকতা। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়েও অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, দরিদ্র পরিবারের সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো কিংবা পারিবারিক সংকটের মতো নানা বিষয়ে মানুষ তার দ্বারস্থ হয়েছেন। অনেকেই জানান, সমস্যার সমাধানে আন্তরিক চেষ্টা এবং মানবিক আচরণের কারণেই তিনি দীর্ঘ বছর ধরে মানুষের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ভাষ্যমতে, রাজনৈতিক দুঃসময়ে তিনি কখনো কর্মীদের মনোবল ভেঙে পড়তে দেননি। আন্দোলন-সংগ্রামের কঠিন সময়ে তার একটি ফোনকল, একটি খোঁজখবর কিংবা একটি সাহস জোগানো বাক্য অনেক নেতাকর্মীর কাছে নতুন উদ্দীপনা হয়ে উঠেছিল। তাদের মতে, নেতৃত্বের আসল পরিচয় সংকটের সময়েই প্রকাশ পায়, আর সেই পরীক্ষায় তিনি নিজেকে বারবার প্রমাণ করেছেন।
সীতাকুণ্ডে দীর্ঘদিন ধরে একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার অবদানের কথা উল্লেখ করেন স্থানীয় নেতারা। তাদের মতে, তিনি নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে উৎসাহ দিয়েছেন, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং সংগঠনের প্রতিটি স্তরে কর্মীদের মূল্যায়নের চেষ্টা করেছেন। এ কারণেই তরুণ প্রজন্মের অনেকেই তার রাজনৈতিক জীবনকে ধৈর্য, ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতীক হিসেবে দেখেন। রাজনীতির পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার নানা দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন স্থানীয়রা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সংস্কার, অসচ্ছল মানুষের চিকিৎসা সহায়তা, দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে তার ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন তারা। অনেকের দাবি, এসব কাজের বড় একটি অংশই হয়েছে নীরবে, প্রচারের আলো থেকে দূরে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার মধ্য দিয়েই তিনি একটি গ্রহণযোগ্য ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও ব্যক্তিগত বা সামাজিক প্রয়োজনে তার কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন, এমন অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অনেকে। তাদের ভাষায়, মানুষের প্রতি সম্মান ও আন্তরিক ব্যবহারই তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। একাধিক প্রবীণ নাগরিক বলেন, নেতৃত্বের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় মানুষের হৃদয়ে। পদ-পদবি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়, কিন্তু মানুষের ভালোবাসা অর্জন করা সহজ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের পাশে থাকা, বিপদে সাহস জোগানো এবং সুখ-দুঃখে অংশীদার হওয়ার কারণেই আজও সীতাকুণ্ডের বহু মানুষের কাছে আসলাম চৌধুরী নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, মানুষের অধিকার, উন্নয়ন এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রশ্নে যেসব মানুষের অবদান সময়ের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকে, অধ্যাপক আসলাম চৌধুরীর নামও সীতাকুণ্ডের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে তেমনভাবেই উচ্চারিত হবে। তাদের মতে, মানুষের জন্য কাজ করার যে সংস্কৃতি তিনি গড়ে তুলেছেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়, আর সেই কারণেই তিনি আজও অনেকের কাছে মাটি ও মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু এবং সীতাকুণ্ডের অভিভাবক হিসেবে পরিচিত।