গাজীপুর টঙ্গীতে ক্যানকুন ইন্টারন্যাশনালের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান আলোচিত “হোটেল জাবান” এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা শেখ বাদল আহমেদের বিরুদ্ধে কোটি টাকার কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২০২০ সাল থেকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কর ফাঁকি দেন তিনি। এসময় রাজধানীর হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পের বাস্তবায়ন করলেও শেখ হাসিনার আত্মীয় পরিচয় দিয়ে কর পরিশোধ করেননি এই আওয়ামী লীগ নেতা।
সম্প্রতি কর ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগে তার একাধিক ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট গনঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর দীর্ঘদিন প্রবাসে পালিয়ে ছিলেন জার্মান আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদল আহমেদ। সম্প্রতি দেশে ফিরে সরকার দলীয় নেতাদের ম্যানেজ করে আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। জার্মান নাগরিক স্ত্রীর পরিচয় ও কতিপয় সংবাদকর্মীর সহযোগিতা নিয়ে সমবেদনা পেতে দৌঁড়ঝাপ করছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে।
সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, জার্মান আওয়ামী লীগের পদ ব্যবহার করে বাংলাদেশে বার এন্ড রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করেন শেখ বাদল। সেই সুবাদে শিল্প নগরী টঙ্গীতে গড়ে তুলেন তিন তারকা “হোটেল জাবান” নামে একটি বার। আলোচিত এই হোটেলটি চালু হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ থাকলেও আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায়নি।
এছাড়াও দলীয় প্রভাব খাটিয়ে রাজধানীর হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজার কোটি টাকার একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেও এসব কাজের কর পরিশোধ করেননি তিনি। এমনকি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তার কাছে কর পরিশোধের নোটিশ পৌঁছানোর সাহস পেতেন না কর কর্মকর্তারা।
এব্যাপারে আওয়ামী নেতা বাদল আহমেদের সাথে যোগাযোগে চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
এবিষয়ে গাজীপুর কর অঞ্চলের উপ-কর কমিশনার মোহাম্মদ শিহাবুল ইসলাম জানান, ক্যানকুন ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে প্রায় ১কোটি ১৫লক্ষ টাকা আয়কর পাওনা রয়েছে। নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও তিনি ২০২০ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সমুদয় আয়কর প্রদান করেননি।