রাজশাহীর বাঘায় পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে দুই ব্যক্তির দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার অভিযান চালিয়ে এই জরিমানা করেন।
জানা গেছে, বাঘা উপজেলার গড়গড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদীতে নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া বেড়িলাবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে আরিফুল ইসলাম ও রাধাকৃষ্ণপুর গ্রামের অনিল প্রামানিকের ছেলে কৃষ্ণ প্রামানিক অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছিলেন। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার পুলিশকে সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়ে মোবাইল কোটের মাধ্যমে দুই ব্যক্তির দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী আক্তার জরিমানার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বাঘা থানা পুলিশের সহযোগিতায় গড়গড়ি ইউনিয়ন সংলগ্ন পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় নদী থেকে বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে ২ ব্যক্তির প্রত্যেককে এক লক্ষ করে মোট দুই লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। আদায়কৃত অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।
উল্লেখ্য, পদ্মা নদীতে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ৭ মাসের ব্যবধানে ৭ জন খুন হয়েছে। খুনের ঘটনাগুলো ঘটেছে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তের পদ্মার চরে। চর দকল ও বাবলু উত্তোলনকে কেন্দ্র পদ্মার চরে গড়ে উছেছে ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। নিহতরা হলেন-গড়গড়ি ইউনিয়নের খানপুরের মিনহাজ মন্ডলের ছেলে আমান মন্ডল, একই গ্রামের শুকুর মন্ডলের ছেলে নাজমুল হোসেন ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিহত হন।
পরদিন ২৮ অক্টোবর হবিরচর থেকে কুষ্টিয়ার লিটন হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার দুই মাস পর ৩ জানুয়ারি গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে সোহেল রানাকে হত্যা করা হয়। সোহেল রানা রাজশাহীর বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের পলাশি ফতেপুর করালি নওশারার চরের কালু মন্ডলের ছেলে। ১৮ মে বাঘা উপজেলার চকরাজাপুর ইউনিয়নের কালিদাসখালী চরে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল গভীর রাতে হামলা চালিয়ে স্বপন বেপারী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করে এবং তার লাশ ট্রলারে করে তুলে নিয়ে যায়। এরপর স্বপন বেপারীর দেড় মাসেও সন্ধান পায়নি পরিবার।
সর্বশেষে ৯ জুন পদ্মার চরের নীচ খানপুরের হবিরচরের দক্ষিণে চৌদ্দহাজার মাঠের পাশে রায়টা এলাকার চর জাজিরা নামক স্থান থেকে নৌপুলিশ আজিজুল হাকিম ঝড়ু নামের এক যুবকের স্পিডবোডের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধার করে। আজিজুল হাকিম ঝড়ু বাগাতিপাড়া উপজেলার হিজলি পাবনা পাড়া গ্রামের আব্দুল শেখের ছেলে। এ বিষয়ে বাঘা থানার ওসি সেরাজুল হক বলেন, প্রশাসনের তালিকায় পদ্মার চরের ১১টি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নাম রয়েছে। সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে- কাঁকন বাহিনী, মন্ডল বাহিনী, টুকু বাহিনী, সাঈদ বাহিনী, লালচাঁদ বাহিনী, রাখি বাহিনী, শরীফ কাইগি বাহিনী, রাজ্জাক বাহিনী, চল্লিশ বাহিনী, বাহান্ন বাহিনী, সুখচাঁদ-নাহারুল বাহিনী। এসব বাহিনী একের পর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে মানুষ হত্যা করছে। তবে ‘অপারেশন ফাস্ট লাইট’ অভিযানে কয়েক দফায় ২০৩ জনকে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছিল।